লক্ষ্মীপুরে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে নির্মাণ কাজের অভিযোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুরে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ভবন নির্মাণ কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। জেলা শহরের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকার কাজীর নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে শ্রমিকদেরকে ওই ভবনের কাজ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন ভাই আব্দুল মালেক মানিক, ফজলুল করিম ও জিল্লুর রহমান পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকায় ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তিন ভাইয়ের নামে জমি ক্রয় হলেও ভাগবাটোয়ারা হয়নি। এরমধ্যেই ফজলুল করিম মারা যাওয়ার পর তার ছেলে মো. শিপন, মো. রিপন ও মো. লিটন নতুন ঘর (ভবন) নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু জমি ভাগবাটোয়ারা ছাড়াই তারা যে যার ইচ্ছেমতো ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে। এতে মানিক তাদেরকে নিষেধ করলেও তারা মানেনি।
আবদুল মালেক মানিক অভিযোগ করে বলেন, আমার জমিতে জোরপূর্বক শিপনরা ঘর নির্মাণ করছে। এ ঘটনায় আমি আদালতে ১৪৪ ধারা মামলা করি। আদালত নির্দেশ দিয়েছে ঘটনাস্থলে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে। পুলিশ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নোটিশ দিয়ে গেলেও তারা মানছে না। শিপনরা আমার কাছ থেকে ৩ শতাংশ জমি কিনেছে, তবে সেটি ঘটনাস্থলে নয়, অন্য স্থানে। কিন্তু তারা ওই জমি আবার অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে শিপন, রিপন ও লিটনের কাছে বক্তব্য জানতে চাইলেও তারা কোন কথা বলেনি। তবে তাদের ভগ্নিপতি মনির আহমেদ বলেন, আমরা শুশ্বরসহ তাদের তিন ভাইয়ের নামে ৩০ শতাংশ জমি রয়েছে, কিন্তু ভাগ হয়নি। এরমধ্যে মানিক চাচার কাছ থেকে ৩ শতাংশ জমি কেনা হয়। ওই জমিতেই ভবন নির্মাণ করতে গেলে মানিক বাধা দেন। এই জমির মালিক আমার শ্যালকরা।
মানিকের ভাই জিল্লুর রহমান বলেন, জমি ভাগবাটোয়ারা শেষ করে ভবন নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছে মানিক। কিন্তু শিপনরা তা মানছে না। জমি পরিমাপ ও ভাগবাটোয়ারা করলেই সঠিক তথ্য বের হয়ে আসবে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, আদালতের নোটিশ পেয়ে দুই পক্ষকেই আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বলা হয়েছে। স্থাপনা নির্মাণ কাজ করা হলে ১৮৮ ধারায় আদেশ নেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেভাবেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।