লক্ষ্মীপুরে সালিসি বৈঠকে ‘বখাটেদের’ হামলা, আহত ২
নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরে দুই সহোদর ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় সালিসি বৈঠকে একদল ‘বখাটে’ কিশোরদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসময় সদর উপজেলা মিয়ারবেড়ি বাজারের মহসিনের দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে জহিরুল ইসলাম ও সজিব হোসেন নামে দুইজন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। রোববার (১১ ডিসেম্বর) রাতে মিয়ারবেড়ি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পাশ্ববর্তী কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের চরমার্টিন বাজারের ফার্ণিচার ব্যবসায়ী বাহার হোসেন ও তার বড় ভাই রুবেল হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় মিয়ারবেড়ি বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জমানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সালিসি বৈঠক বসে। কার্যালয়ের বাইরে বাহারের পক্ষে রহিদুল ইসলাম রনি ও ফারুক হোসেনসহ ২০-২৫ জন কিশোর অবস্থান নেয়। রাতে বৈঠক শেষে সবাই বের হয়ে আসলে কিছু বুঝে উঠার আগেই সালিসদারদের ওপর তারা চড়া হয়ে উঠে। একপর্যায়ে দলবদ্ধ কিশোররা সালিসদারদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। এতে জহিরুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। এসময় বাধা দেওয়ায় তারা পাশ্ববর্তী মহসিনের দোকানঘরের আলমিরাসহ মালামাল ভাঙচুর করে। পরে বাজারের ব্যবসায়ীরা জড়ো হলে তারা পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাতেই সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এ ঘটনায় থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
সালিসে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) আহছান উল্যাহ, মোতাহের আলী, সদর উপজেলার (পূর্ব) যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক জসিম উদ্দিন, স্থানীয় বিএনপি নেতা নাজির উল্যা মাঝি, কমলনগর উপজেলা জাসদ নেতা বাবুল মুন্সি ও আওয়ামী লীগ নেতা মানিক ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন।
হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত রহিদুল ইসলাম রনি ও ফারুক হোসেনের মোবাইলফোনে কল দিয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে ফারুকের মা কহিনুর বেগমের দাবি, তার ছেলে কারো ওপর হামলা করেনি। উল্টো রুবেলের লোকজন তার ছেলে সজিবকে মারধর করে। তার ছেলেকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মিয়ারবেড়ি বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত বখাটে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর। এজন্যই তারা হামলা করে। পরে ব্যবসায়ীরা জড়ো হলে তারা পালিয়ে যায়।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।