লক্ষ্মীপুরে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ঘর নির্মাণের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে কাজ বন্ধ করে দেন। সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরউভূতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে বিবি খদিজা ও বিধবা জেসমিন বেগমদের জমিতে মো. সেলিম নামে এক ব্যবসায়ী জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করছিল। এনিয়ে ৩ নভেম্বর ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে খদিজা বেগম বাদী হয়ে সেলিমসহ ৬ জনের নামে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যাজিষ্ট্রেট ১৪৪ ধারা জারি করে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। আদালতে নির্দেশে সদর মডেল থানার এএসআই সহিদুল ইসলাম উভয়পক্ষের কাছে নোটিশ পেঁছে দেন। ২৬ নভেম্বর উভয়পক্ষকে আদালতে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ম্যাজিষ্ট্রেট। বাদী খদিজা একই এলাকার অলিউর রহমানের স্ত্রী।
এদিকে রোববার (৬ নভেম্বর) সকালে কাজ শুরু করলে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপরও সেলিম কাজ বন্ধ রাখেনি। সোমবার সকালে পুনরায় কাজ শুরু করলে ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।
বিবি খদিজা ও জেসমিন বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর আগে জেসমিনের স্বামী সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে জমি কেনার জন্য সেলিম ২ লাখ টাকা দেয়। পরবর্তীতে বাকি টাকাও দেননি এবং জমিও রেজিষ্ট্রি নেননি। সম্প্রতি খদেজা ও জেসমিনরা তাদের জমি সদরের টুমচর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজের কাছে জমি বিক্রি করে দেন। এখন ওই জমিতে জোরপূর্বক সেলিম ঘর নির্মাণ করছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তিনি তা মানছেন না ।
বাড়িতে গিয়ে সেলিমকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী শাহিনুর বেগম বলেন, ৭ বছর আগে আমরা জমি কেনার উদ্দেশ্যে সাহাবুদ্দিনকে টাকা দিয়েছি। জমির কাগজপত্র ঠিক না থাকায় আমরা রেজিষ্ট্রি নিতে পারিনি। দেড় মাস ধরে মাটি কেটে ভিটি দাঁড় করেছি। তখন কেউ বাধা দেয়নি। এখন ঘর নির্মাণ করতে গেলে অযথা আমাদের বাধা দিচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডলে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বলেন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে ঘটনস্থল গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা ঘটনাস্থল পৌঁছার আগেই অভিযুক্ত সেলিম ও শ্রমিকরা পালিয়ে গেছে। এজন্য তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগীকে মামলার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।