চাঁদা না দেওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তার জমিতে স্থাপনা নির্মাণে বাধা

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২২ ৪:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় জহির উদ্দিন নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে নিজ জমিতে স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমসেরাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পরিতোষ চন্দ্র দাসসহ কয়েকজন চাঁদার জন্য নানানভাবে ব্যাংক কর্মকর্তাকে হয়রানি করে আসছে।

 

এদিকে চাঁদা দাবির ঘটনায় জহির সম্প্রতি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী অঞ্চল সদর আদালতে বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে পরিতোষ ও তার স্ত্রী স্বপ্না রানী দাস, আত্মীয় প্রশান্ত চন্দ্র দে নামে তিনজনকে আসামী করা হয়। মামলাটি সদর থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। থানা পুলিশের তদন্তে চাঁদাবাজির ঘটনার সত্যতা উঠে আসে। গত ২৫ এপ্রিল সদর থানা পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ১৭ জুলাই প্রধান আসামী পরিতোষকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরদিন তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও জহিরকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

ভূক্তভোগী জহির কমলনগর উপজেলার চরফলকন কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

 

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উমাহরী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৯৮৫ ফেরদৌসী বেগম নামে এক নারী ১৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সে জমি থেকে ৪ শতাংশ জমি কিনেন ব্যাংক কর্মকর্তা জহির। সে জমিতে কাজ শুরু করার পর থেকে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পরিতোষ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৩ টি মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলো খারিজ করে দেয় আদালত। গত ১১ ফেব্রুয়ারি পরিতোষসহ তার লোকজন জমির সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে। নির্মাণ কাজের জন্য আনা সিমেন্টও নষ্ট করে দেয় তারা।

 

ব্যাংক কর্মকর্তা জহির উদ্দিন বলেন, ২০১৯ সালে ফেরদৌসী বেগম নামে একজনের কাছ থেকে আমি ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি। পরবর্তীতে জমিটি আমার নামে জমা খারিজ করা হয়েছে। সম্প্রতি জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। তখন পরিতোষ আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। না দেওয়ায় তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে।

 

অভিযুক্ত পরিতোষ সমসেরাবাদ এলাকার মৃত মনমোহন চন্দ্র দাসের ছেলে। এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি। তার স্ত্রী স্বপ্না রানী দাস জানান, ওয়ারিশসূত্রে জমির মালিক আমার স্বামী। আর আমাদের সঙ্গে জহিরের কোন বিরোধ নেই। চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। ফেরদৌসি বেগম জমিটি উমাহরির কাছ থেকে কিনেছেন। কিন্তু এখানে উমাহরির কোন জমি নেই। আদালতে মামলার আপিল চলছে। এজন্য আমরা কাজ বন্ধে প্রশাসনের আশ্রয় নিয়েছি।

 

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইসমাইল হোসেন বলেন, ৯৯৯ কল পেয়ে আমরা এসেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা উভয়পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছি। আদালত কর্তৃক আপিলের রায়ের কপি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন