প্রেমের টানে জার্মান নারী এখন বরিশালে

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ৭ মার্চ, ২০২২ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ

প্রেমের টানে সুদূর জার্মানি থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন আলিসা থেওডোরা পিত্তা নামে এক নারী। ব‌রিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিব হোসেন শুভকে বিয়ে করেন তিনি। তবে বিয়ের আগে আলিসা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

শুক্রবার (৪ মার্চ) বিকেলে নববধূকে নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন শুভ। শনিবার (৫ মার্চ) সকালে হেলিকপ্টার চেপে বরিশালে আসেন তারা। বিদেশি বউ নিয়ে আসার খবর পেয়ে দলবেঁধে তাদের দেখতে আসেন গ্রামবাসী। পরে নববধূকে ফুল দিয়ে বরণ করেন শুভর স্বজনরা।

জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে জার্মান নারী আলিসাকে বিয়ে করেন শুভ। তবে, সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান করা হয়নি। এজন্য বিয়েবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে এসেছেন তারা। সেখানে বউভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন তারা। শুভ রেলওয়ে ডিপ্লোমা পাস করে ২০১১ সালে জার্মানিতে পাড়ি জমান। সেখানে সিটি রেলওয়ে সার্ভিসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ নেন। একপর্যায়ে স্থানীয় বেইলি ফিল্ড ডায়ালন্ড্রোভ এলাকার বাসিন্দা আলিসার সঙ্গে পরিচয় হয়। আলিসা পেশায় নার্স। তার বাবা ও মা সেখানকার চাকরিজীবী।

শুভ বলেন, গত বছরের শনিবার (৫ মার্চ) এলিসা ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন আলিসা বেগম হিসেবে আমার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। শনিবার আমাদের বিয়েবার্ষিকী। তাই শুক্রবার জার্মানি থেকে রওয়ানা হয়ে বাংলাদেশি আসি। শ‌নিবার সকালে হেলিকপ্টার চড়ে আলিসাকে নিয়ে বরিশালে গ্রামের বাড়ি আসি। আলিসার সঙ্গে এসেছেন তার বান্ধবী লেইসা।

শুভ বলেন, জার্মানিতে একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় প্রায়ই আলিসার সঙ্গে দেখা এবং কথা হতো। এভাবে কিছুদিন চলার পর আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্ক চলে অনেক দিন। দুজনই অনুভব করতাম আমাদের মধ্যে ভালোবাসা জন্ম নেয়ার বিষয়টি। কিন্তু প্রস্তাব কে আগে দেবে? এটি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। বিষয়টি মাথায় রেখে দুজন-দুজনকে আরও বোঝার চেষ্টা করলাম। যখন অনুভব করলাম আলিসা আমাকে মনেপ্রাণে চায়। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম প্রস্তাব দেয়ার।

একদিন আলিসার মনের অবস্থা বুঝে ভালোবাসার কথাটা জানালাম। উত্তর আসার সঙ্গে সঙ্গে বুঝলাম, আলিসাও অপেক্ষায় ছিল প্রস্তাবের। ভালোবাসা হয়ে যাওয়ার পর আর সেভাবে ভালোবাসার কথা বলা হয়নি। কিন্তু ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিষয়টি আমার পরিবারকে জানাই। তাদের কাছ থেকে সম্মতি পাওয়ার পর আলিসাকে তার পরিবারকে রাজি করাতে বলি। আলিসার পরিবারও আমাদের ভালোবাসায় সম্মতি দেয়। বিয়ের আগে আলিসাকে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করতে বলি। এতে রাজি হয়ে যায়। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে আমরা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হই।

শুভ বলেন, বাংলাদেশে আসতে গেলে আমাদের দুজনকেই ছুটি নিতে হবে। এজন্য আমরা আগেভাগে বিবাহবার্ষিকীর দিনটা ঠিক করে রাখি। ওইদিন দেশে যাবো। সেভাবে ছুটি নিয়ে জার্মানি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে চলে আসি বরিশালে। দেশের মাটিতে পা রাখার পর কতটা ভালো লেগেছে তা বলে বোঝাতে পারবো না।

শুভ বলেন, আমরা বিয়ে করেছি বিদেশে। সেখানে আমাদের সমাজের যে রীতি-নীতি ও উৎসব তা পালন করতে পারিনি। আমাদের দেশের বিয়েতে যতটা উৎসব হয়, তাও হয়নি। আমি চাই, নতুনভাবে বিয়ের উৎসব করতে। আলিসাও আমাদের দেশের বিয়ের অনুষ্ঠান দেখে মুগ্ধ হবে। সেও চাচ্ছে, এদেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী বিয়ের উৎসব হোক। আমার এবং আলিসার আবদারে আমার বাবা-মা ও স্বজনরা নতুনভাবে বিয়ের উৎসবের আয়োজন করছেন। বুধবার (৯ মার্চ) হবে আমাদের গায়ে হলুদ। ১০ মার্চ গ্রামবাসীর জন্য বউভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শুভর বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ছেলে বিদেশে বিয়ে করেছে। সেখানেই থেকেছে এতদিন। অনেকদিন পর পুত্রবধূকে নিয়ে দেশে ফিরেছে। গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনকে ছেলের বিয়েতে দাওয়াত দিতে পারিনি। এজন্য গায়ে হলুদ ও বউভাতের আয়োজন করেছি। তাদের বিয়েতে আমি অনেক খুশি।

তিনি বলেন, এখন বা‌ড়িতে দিনভর গ্রামের লোকজন আসছে, কথা বলছে। কিন্তু সব কথা বউমা বুঝতে পারছে না। তাকে ছেলে কথাগু‌লো ট্রান্সলেট করে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

 

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন