কোটি টাকা থাকার চেয়ে সুস্থ্য জীবন অনেক ভালো
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলাফেরা করতে না পারা, একা একা শুয়ে থাকা খুবই বিরক্তকর। কোটি টাকা থাকার চেয়ে স্বাভাবিক জীবন অনেক ভালো। হাজার কোটি টাকা দিয়ে কি করবে, যদি মানুষের শারিরীক অবস্থা ভালো না থাকে? আল্লাহর কাছে এটি আমার কামনা, যেন সারাজীবন সুস্থ্য থাকি। কোটি টাকার দরকার নেই, স্বাভাবিক জীবন যাপনই উত্তম। মঙ্গলবার (১১ মে) বিকেলে অসুস্থ্য কলেজছাত্র আরিফ হোসেন এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমি কিভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি, তা মনে নেই। আসলে আমার স্মৃতিশক্তি আগের মতো নেই। দুর্ঘটনার পর আমার এক ভাগিনা গিয়ে আমাকে উদ্ধার করেছে, এতটুকুই মনে আছে। পা ভালো হবে কি না, এনিয়ে খুব ভয় হয়। ইউএসবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ যারা আমার চিকিৎসার জন্য সহযোগীতা করেছেন তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি। তারা যেন সবসময় ভালো থাকে।
আরিফের বোন বিবি কুসুম জানান, দুর্ঘটনার পর ঢাকায় নিলে দালালের খপ্পরে পড়ে মোহাম্মদপুরের একটি হাসপাতালে আরিফকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর অপারেশন করা হয়। অপারেশন ছাড়া তিন দিনে হাসপাতালে ২০ হাজার টাকা খরচ এসেছে। চিকিৎসার জন্য এতো টাকা খরচ করা তাদের সম্ভব ছিলো না।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে মালিকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমার ভাইকে চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কোন সমস্যা হলে তাঁকে জানাতেও বলেছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ, কোন সমস্যা হয়নি। হাসপাতালে সবাই খুবই আন্তরিক ছিলেন আমাদের প্রতি। হাসপাতালের মালিক, চিকিৎসক, নার্সদের জন্য সবসময় দোয়া করি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সবসময় দোয়া করবো।
জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল বন্ধুর বাবার জানাযার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় কমলনগর উপজেলার করইতলা বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় আরিফ গুরুত্বর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা নিলে দালালের খপ্পরে পড়ে পঙ্গু হাসপাতালের পরিবর্তে মোহাম্মদপুরের ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এতে তিনদিনে ৩ বার অস্ত্রোপাচার করতে হয়েছিল আরিফের পায়ে। প্রায় ৮০ হাজার টাকা ধার করে নিয়ে অস্ত্রোপাচার করা হয়। অভাবী সংসারে তার বাবা মো. সিরাজ ও মো. শাহিনের পক্ষে চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব ছিলো না।
এনিয়ে ৮ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশ হয়। ৯ এপ্রিল থেকে ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বিনামূল্যে এক মাস আরিফকে ভর্তি রেখে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে ৮ মে আরিফকে নিয়ে তার বোন কুসুম বাড়ি ফিরেছেন। আরিফের সেবা দেওয়ার মতো বাড়িতে কেউ না থাকায় কুসুম তাকে নিজের বাড়ি সদরের ভবানীগঞ্জের সূতার গোপ্তা এলাকায় রেখেছেন। হাসপাতালে সার্বক্ষণিক আরিফের সঙ্গে ছিলেন তিনি। ঢাকায় নিয়ে আগামি ৯ জুন তার আরও একবার অস্ত্রোপাচার করার তারিখ দিয়েছে চিকিৎসক।
প্রসঙ্গত, আরিফ লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তার বাবা মো. সিরাজ মানসিক রোগী। কমলনগরের কাদিরপন্ডিতের হাট এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে এসে বসবাস করছে। দুর্ঘটনার ২৩ দিন আগে আরিফের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। টাকার অভাবে আরিফ কখনো শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়েননি। নিজের পড়া নিজেই সম্পন্ন করতেন। আরিফ মেধাবী ছাত্র।