‘বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী প্রকাশের পর কোনো অপচেষ্টা সফল হয়নি’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ে ইতিহাস থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী প্রকাশের পর এই অপচেষ্টা সফল হয়নি। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশের পর ইতিহাস বিকৃতির হাত থেকে জাতি কিছুটা রক্ষা পেয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ব্রেইল সংস্করণের মোড়ক উম্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পাঠকদের কথা বিবেচনা করে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির ব্রেইল সংস্করণ প্রকাশে উদ্যোগ নেয়। প্রথম ধাপে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ১০০ সেট (প্রতিটি ৬ খণ্ড) ব্রেইল সংস্করণ মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটি লেখা শুরু করেছিলেন। ২০১২ সালের ১২ জুন বইটি প্রকাশিত হয়।
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ব্রেইল সংস্করণে মোড়ক উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ব্রেইলে প্রকাশ করা হয়েছে যাতে আমাদের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরাও পড়তে পারে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অনেকে পড়াশোনা করে, তারাও যেন বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারে। তারাও ইতিহাসটা জানার সুযোগ পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাস এমনকি বাহান্নতে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল, তার নাম যেসব জায়গা থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল এই বইটি প্রকাশ হওয়ার পর সেই ইতিহাস বিকৃতির হাত থেকে আমরা রক্ষা করতে পারি।
বঙ্গবন্ধুকে আত্মজীবনী লেখায় বঙ্গমাতা সবসময় উদ্বুদ্ধ করতেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমার মা সবসময় অনুপ্রেরণা দিতেন তিনি যেন তার জীবনীটা লিখে রাখেন। সেই থেকে তিনি কিন্তু লিখতে শুরু করেন। বাবা যতবার কারাগার থেকে মুক্তি পেতেন আমার মা জেলগেটে আর কিছু না হোক লেখার খাতাগুলো সংগ্রহ করে রাখতেন।
অসমাপ্ত আত্মজীবনীর পাণ্ডুলিপি উদ্ধারের ইতিহাস তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ১৯৭১ সালে এই খাতাগুলো আমরা প্রায় হারাতে বসেছিলাম। কিন্তু সে সময় আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলাম। যদিও আমাদের ধানমন্ডির বাসা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লুটপাট করে। অনেকগুলো খাতা সেগুলোর ওদের কাছে মূল্য ছিল না। যাই হোক একসময় সেগুলো উদ্ধার করে নিয়ে আসি। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ও ত্যাগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।