মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবার আমৃত্যু জেল
ঘুমের মধ্যে কিশোরী সন্তানকে ধর্ষণ করেছেন বাবা। ঘটনা ভারতের রাজস্থানের বারান জেলায়। তিন বছরের আগের সেই ঘটনায় যাবজ্জীবন জেল হয়েছে ধর্ষক বাবার। মৃত্যু পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে তাকে।
তিন বছর আগের এক শীতের রাত। বাবার পাশে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিল বছর তেরোর মেয়েটি। ঘরে আর কেউ ছিল না। বাবা-মেয়ে ছাড়া। বাকিরা ঘুমিয়ে ছিল পাশের ঘরে। সেই সুযোগে ঘুমন্ত মেয়েকে ধর্ষণ করেন ভগবান লাল গালাভ। ৬০ বছর বয়সী লোকটাকে যে বাধা দেবে, সে ক্ষমতা ছিল না মেয়ের।
পরদিন মাকে জানিয়েছিল সব কথা। কীভাবে বাবা তাকে রাতভর অত্যাচার করেছে। মায়ের বুঝতে বাকি ছিল না কী ঘটেছে। স্বামী বলে সুযোগ দেননি স্ত্রী। লজ্জায় ঘৃণায় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন তিনি। স্বামীর বিরুদ্ধে গুছিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
পালানোর পথ ছিল না পাষণ্ড বাবা ভগবান লাল গালাভের। কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যায় পুলিশ। দু-বছর ধরে শুনানির পর শুক্রবার রাজস্থানের বারান জেলার পকসো আদালত ভগবান লালকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে। এই যাবজ্জীবন বারো বছরের নয়, চোদ্দো বছরেরও নয়। আমৃত্যু গারদের চার দেওয়ালেই কাটাতে হবে। সেই সঙ্গে ২৫ হাজার টাকার আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে খবর, রাজস্থানের বারান জেলার নহরগঢ় থানার অখ্যাত মামলি গ্রামে ঘটেছিল ওই ঘটনা। ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর রাতে। পকসো-১ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ঘানসিলাল ভার্মা জানান, মৃত্যু যতদিন না হবে, তত দিন জেলেই কাটাতে হবে ভগবান লালকে। শুক্রবার পকসো-১ আদালতের বিচারক এই মর্মে সাজা ঘোষণা করেছেন।
কিশোরীর বয়ানের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণ) ছাড়াও নিগৃহীতা নাবালিকা হওয়ায় পকসো আইনের ধারও দেওয়া হয়েছিল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।
দু-বছর ধরে শুনানি শেষে গত শুক্রবার পকসো আদালতের বিশেষ বিচারক রাকেশ কাতারা গালাভকে দোষী সাব্যস্ত করেন, যাবজ্জীবনের সাজা ঘোষণা করেন। শাস্তি ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ বিকৃত মানসিকতা এবং নৈতিক অবক্ষয়ের প্রমাণ। মেয়েদের আত্মসম্মানে আঘাত করে এ ধরনের ঘটনা। এই ধরনের অপরাধে জড়িতরা শাস্তির হাত থেকে বেঁচে গেলে, মানুষের আইনের প্রতি আস্থা হারাবে। তা কখনোই কাম্য নয়।
সূত্র: এই সময়