লক্ষ্মীপুরে ভয়ঙ্কর কুকুরে ভীত জনসাধারণ !

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৭:৫৯ অপরাহ্ণ

হাসান মাহমুদ শাকিল: কুকুর সমাজের পরিস্কারক হিসেবে কাজ করে। আবার যে এলাকায় কুকুর থাকে সেই এলাকায় চোর ভয়ে যেতে পারে না। কারণ দেখলে ‘খেউ খেউ’ শব্দে অচেনাদের উপস্থিতি জানান দেয়।

কিন্তু এই কুকুর বেপরোয়া হয়ে উঠলে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। এসময় চেনা-অচেনা যে কাউকেই কামড়িয়ে মারাত্মক আহত করতে পার। আবার জলাতঙ্ক রোগতো আছেই। প্রাকৃতিক আশ্রয়ে বেড়ে উঠা কুকুরগুলোকে জলাতঙ্ক রোধক ভ্যাকসিনসহ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা। 


এদিকে কুকুরের দ্বারা যেকোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ এলাকার বাসিন্দারা। সেখানে কলেজ ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও কুকুরের কামড়ের শিকার হতে পারে। কারণ ওই এলাকায় প্রায় ২০ টি কুকুর দলবদ্ধ হয়ে থাকে। হঠাৎ নিজেরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে যায়।

এতে তাদেরকে খুব ভয়ানক দেখায়। তাদের দেখে শিক্ষার্থীরাসহ জনসাধারণ খুব ভীত হয়ে পড়ে। এটি শুধু কলেজ এলাকায় নয়, জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানেই দেখা মিলে। আবার হঠাৎ চলন্ত গাড়ির চাকার সামনে কুকুর পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে।


অপরদিকে সরকারি কলেজ এলাকা দলবদ্ধ কুকুরের মধ্যে একটির মাথায় জখম রয়েছে। যেখানে মাছ-মশার আক্রমণে নানা ভাইরাসের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আক্রান্ত পুরুষ কুকুরটি যার সাথে মিলনে জড়িয়ে সে মারা গেছে। কুকুরটি যেখানে দাঁড়ায় সেখানে প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়ায়।

জনবসতি এলাকা হওয়ায় তার থেকে মানুষের শরীরেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত কুকুরগুলোকে জলাতঙ্ক রোধের ভ্যাকসিন দিলে ভালো হতো। লক্ষ্মীপুর প্রাণি সম্পদ কার্যালয় ও পৌরসভার পক্ষ দ্রুত উদ্যোগটি নেওয়ার জন্য দাবি জানানো হয়।


সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শাহনাজ আক্তার বলেন, আমি এমনিতে কুকুরকে ভয় পাই। সবার সাথে কুকুরের পাশ কেটে যেতে পারলেও একা খুব ভয় লাগে। কলেজ এলাকায় কুকুরের ঝগড়ার মাঝখানে পড়ে ভয়ে কান্না চলে আসছে।


পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাবু বলেন, কুকুর আমাদের সমাজের পরিবেশ পরিস্কারক হিসেবে কাজ করে। তাদেরকে হত্যা না করে জলাতঙ্ক নিরোধক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আর অসেচতনরা গরম পানি ঢেলে কুকুরের শরীর ঝলসে দেয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে আবার মানুষেরই ক্ষতি হতে পারে। কুকুর

আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, তাদেরকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।
সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. যোবায়ের হোসেন বলেন, কুকুরকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্পুর্ণ পৌরসভার দায়িত্ব। এক্ষেত্রে পৌরসভা থেকে চাইলে আমরা টেকনিক্যাল সহযোগীতা দিতে পারি। 


লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সচিব আলাউদ্দিন বলেন, যেকোন প্রাণী হত্যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কুকুরও হত্যা করা যাবে না। আমাদের কাছে ভ্যাকসিন নেই। নোয়াখালী থেকে ভ্যাকসিন আনার চেষ্টা করছি। দ্রুত ভ্যাকসিন এনে কুকুরকে পুশ করার ব্যবস্থা করা হবে। 


লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাইন উদ্দিন পাঠান বলেন, চারদিকে এতো বেশি কুকুর বেড়েছে যে মানুষ রাস্তায় আতঙ্ক নিয়ে বের হতে হয়। এতে শিক্ষার্থী ও জনসাধারণকে খুব বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। খুব দ্রুত কুকুর নিয়ন্ত্রণ জরুরী।  

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন