রায়পুরে শিলা বৃষ্টিতে স্বপ্ন ভাঙল কৃষকের

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

মোঃ মোস্তফা কামাল : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কালবৈশাখী ঝড় ও প্রচন্ড শিলা বৃষ্টিতে ধান ও সয়াবিন ঘরে তোলার আগ মুহুর্তে কৃষকের স্বপ্ন হঠাৎ করে অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।

এতে স্বপ্ন ভাঙল কৃষকের। অসময়ে মুষলধারে কয়েক ঘন্টার শিলা বৃষ্টি ম্লান করে দিয়েছে কৃষকের স্বপ্ন। দিনবদলের ফসল হিসেবে খ্যাত সয়াবিন ও ধান ঘরে তোলার যে মুহুর্তে স্বপ্ন দেখছিলেন ঠিক তখন প্রচন্ড ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কেড়ে নেয় কৃষকের স্বপ্ন। পাশাপাশি এ উপজেলায় উপকূলীয় অঞ্চলে গাছপালা ও ঘর বাড়ীর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


উপজেলা কৃষক অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার প্রায় ৭ হাজার ৩’শ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের ও ৪’শ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে এসকল ফসলের ৬০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এভাবে আর একদিন বৃষ্টি হলেই সয়াবিন ও ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্খা রয়েছে। উপজেলার উপকূলীয় চরলক্ষী, মিয়ারহাট, কানি বগার চর, চরবংশী, জালিয়ার ও বেড়িবাঁধের বাহির এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কৃষিকর্মকর্তা।

এছাড়া বেড়িবাঁধের দু’পাশের কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের তিনটি খুটি পড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকবল সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছে না বলে জানান বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন।


জালিয়ারচর এলাকার কৃষক আব্দুল গণি বলেন, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ৩ একর জমিতে সয়াবিনের চাষ করি। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহুর্তে প্রচন্ড ঝড় আর শিলা বৃষ্টিতে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কিভাবে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করবো তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার জানান, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত চিত্র জানতে আমরা চেষ্টা করছি। শিলা বৃষ্টির পরপরই আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কৃষকদের সহায়তা করার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন