স্যার ম্যামরা যে বাবা মায়ের মত তা আজ প্রমাণ পেলাম !
শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীরা ছেলে মেয়ের মত বিপদে পড়ে প্রমাণ পেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। তার ফেসবুক স্ট্যাটাস মোহনানিউজের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো…
আজ মাস্টার্স ২০১৬-১৭ বাংলা বিভাগের শেষ এক্সাম ছিলো। পরীক্ষার কেন্দ্র ছিলো ইডেন কলেজ। পরীক্ষার ঠিক তিন ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পরে বাংলা বিভাগের আমদেরই বন্ধু রেফাজ্জেল হোসেন হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পরে।
সাথে সাথে কর্তব্যরত টিচার,ম্যাম যারা গার্ডে ছিলেন ইডেনের প্রিন্সিপাল ম্যাম কে দ্রুত ফোন দিয়ে নিয়ে আসেন। ম্যাম এসে নিজে প্রায় কান্না করে দেবার মত অবস্থা যেনো তারই সন্তান তার সামনে অসুস্থ হয়ে কাতরাচ্ছে। বারবার পালস চেক করলেন, কপালে চুমু খেলেন আহারে বাবা বলে আহাজারি করলেন এটা একমাত্র একজন মায়ের থেকেই আশা করা যায়। ম্যাম দ্রুত পিজি থেকে ডাক্তার ফোন করে নিয়ে আসলেন। ডাক্তার এসে চেক করলেন বললেন অবস্থা বেশি ভালোনা দ্রুত হসপিটালে নিতে হবে।
ম্যামের অস্থিরতা দেখে আমাদেরই চোখে পানি এসে গেলো। তিনি এম্বুলেন্স কল করে নিয়ে এসে দ্রুত রেফাজ্জলকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। এবং ঢাকা মেডিকেলে ফোন দিয়ে দিলেন যে ঢাকা কলেজের ছাত্র যাচ্ছে তাকে যেনো ভালো করে দেখা হয়। ম্যাম আমাদের ঢাকা কলেজের বাংলা ডিপার্টমেন্ট কে অবহিত করলেন সকল কিছুই। ভাইভার প্রস্তুতি বিষয়ক আলোচনার জন্য আগেই আমাদের এক্সাম শেষে ডিপার্টমেন্টে যাওয়ার নোটিশ ছিলো। আমরা যথারীতি চলে গেলাম।
আমাদের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান শ্রদ্ধেয় সানজিদা আক্তার ম্যাম প্রচন্ড অসুস্থতার মধ্যে তিনি চলে আসলেন এবং বললেন তোমাদের এক বন্ধু হসপিটালে দ্রুত তার খোঁজ নিয়ে জানো কে কে আছে তার সাথে এবং কি অবস্থা এখন। ফোন দিয়ে জানলাম তার অবস্থা বেশি ভালো নাহ। ম্যাম অস্থির হয়ে গেলেন তার ব্যাগ থেকে সাথে সাথে এগারো হাজার টাকার উপরে দুই বন্ধুকে দিয়ে হসপিটালে পাঠালেন এবং বললেন তোমারা দ্রুত চলে যাও আর যা লাগে আমাকে জানাও।
ঢাকা মেডিকেলে ডাক্তার না থাকার কারনে হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানেও দুই কলেজ থেকে ফোন করে অবহিত করা হলো। সেখানে ইসিজি করে দেখা হলো তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে ২/১ দিন বাদেই সে সুস্থ হয়ে যাবে। আমরাও আশা রাখি রেফাজ্জল দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। তবে আজ ম্যামরা যে মানবিকতা, মহানুভবতার পরিচয় দিলেন এটা আজীবন মনে থাকবে। গার্ড কিংবা অন্যান্য অনেক কারনে দুই কলেজের টিচারদের উপর অনেকেরই মনখারাপ থাকতে পারে। তবে আজ যে তারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তাতে আমাদের ঢাকা কলেজের পক্ষ থেকে ইডেন কলেজের স্যার ম্যামদের প্রতি অনেক দোয়া রইলো আর দাঁড়িয়ে স্যালুট তাদের প্রতি।
বিশেষ কৃতজ্ঞতা আমাদের বাংলা বিভাগের শ্রদ্ধেয় ম্যাম সানজিদা আক্তারের প্রতি। তিনি তার অসুস্থ শরীর নিয়ে যেভাবে রেফাজ্জলের খোঁজ নিয়েছেন এবং তাৎক্ষণিক যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন সেটা বেশ প্রশংসনীয়। আল্লাহ তাকে দ্রুত সুস্থ করে দিক অনেক দিন আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখুক এই কামনাই করি। বিভাগের একটা ছাত্রের প্রতি তার অস্থিরতা আর ছটফটানি, নিজের অসুস্থতা ভুলে ছাত্রের খোঁজ নেয়া এ যেনো মমতাময়ী এক মায়ের রূপে আবির্ভূত হলেন তিনি।
আর সর্বশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই বাংলা ডিপার্টমেন্ট এর বন্ধু বৈশাখী টেলিভিশন এর সাংবাদিক আশিক মাহমুদ কে। তুই যা করেছিস সত্যি সেটা ধন্যবাদ দিলে ছোট হয়ে যাবে। এভাবেই বন্ধুদের বিপদে-আপদে পাশে থাকিস এই কামনা রইলো। সবশেষে একটাই কথা স্যার ম্যামরা আমাদের শত্রু নন তারা আমাদের বাবা মায়ের মতন। আমাদের উচিত তাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা তাদের সাথে কোনোরকম বেয়াদবি না করা।।