স্ত্রীর মর্যাদা চান ৭০ বছরের কানন

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

মোহনানিউজ ডেস্ক: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পূর্বাপাড়া গ্রামের কানন বিশ্বাসের (৭০) সাথে বটবাড়ী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণকান্ত মন্ডলের (৭৭) ১৯৬৯ সালে বিয়ে হয়। ৬/৭ বছরের সংসার জীবনে তাদের ঘরে দুটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ছেলেটি অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। আর মেয়েটি মারা যায় স্বামী কৃষ্ণকান্ত মন্ডলের নির্যাতনে মায়ের কোল থেকে পড়ে গিয়ে! তারপর যৌতুকলোভী কৃষ্ণকান্ত মারপিট করে কাননকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

অদ্যাবধি কানন বিশ্বাস বাবার বাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে অবস্থান করছেন। শুধু হিন্দু ধর্মীয় সামাজিক প্রয়োজনে স্ত্রীকে বাড়ি নেয়া হয়। স্বামী কৃষ্ণকান্ত মন্ডল দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার বাঁধেন। কিন্তু আজও শাখা সিঁদুর গায়ে নিয়ে স্বামীর কাছে স্ত্রীর মার্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তিনি। ভাইয়ের সংসারে খেয়ে না খেয়ে রোগে শোকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বৃদ্ধা কানন বিশ্বাস।

আমতলী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বিদ্যাধর বিশ্বাস এবং রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার সদানন্দ গাংগুলিসহ স্থানীয়রা বিষয়টি সামাজিকভাবে মেটানোর জন্য সালিশের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু কৃষ্ণকান্ত মন্ডল তা গ্রাহ্য করেননি।

পরে, স্বামীর অধিকার পেতে বৃদ্ধা কানন বিশ্বাস বাদী হয়ে গত ১৯ আগস্ট কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে এলাকায় গেলে বৃদ্ধা কানন বিশ্বাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মৃত্যুকালে আমি শুধু আমার মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর অধিকার নিয়ে মরতে চাই। এ ব্যাপারে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে পার্শ্বনাথ বিশ্বাস (৭৫), সর্বরানী বিশ্বাস (৭২), গোলাপ ভাবুক (৮৫), জগদিশ ঠাকুর (৭২), মুক্তিযোদ্ধা হরকান্ত বিশ্বাস, আমতলী ইউপি ৪নং ওয়ার্ড সদস্য বিভাষ বিশ্বাস, সঞ্জয় বিশ্বাস, অখিল হালদারসহ শতাধিক এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কৃষ্ণকান্ত মন্ডলের এ কেমন আচরণ! তার মত একজন মানুষ কীভাবে এহেন অমানবিক কাজ করতে পারে?

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণকান্ত মন্ডলের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন