সংলাপ ও জোট ইস্যুতে আসতে পারে নতুন চমক

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর, ২০১৮ ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: উপকূলীয় জনপদ লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনটি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে দলের হাইকমান্ডের অপেক্ষা করছে বিএনপি নেতারা।

আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিভিন্ন বিল বোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন দিয়ে সরব রেখেছে ভোটের মাঠ। তবে সংলাপের ও জোটের ইস্যুতে এ আসনে আসতে পারে নতুন চমক।

সম্প্রতি সংলাপ ও জোট ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্ট অন্যতম নেতা আ.স.ম আব্দুর রব ও বিকল্প ধারার মহা-সচিব মেজর (অবঃ) আব্দুল মান্নান মনোনয়ন পেতে পারে এতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের কপাল পুড়তে বসেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদের ২৭৭ নম্বর এ আসনে নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৯১ সালের প্রথম নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রয়াত সিএসপি আবদুর রব চৌধুরী, ৯৬ সালে বিজয়ী হন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান নির্বাচিত হন। সবশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ওরফে আবদুল্লাহ আল মামুন। আগামী নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

এআসনে ২ লাখ ৯৮ হাজার ১৭৫ জন ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ এক লাখ ৪৯ হাজার ৫৫০ এবং মহিলা এক লাখ ৪৮ হাজার ৬২৫ জন ভোটার।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডির) সভাপতি ও স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক আ স ম আবদুর রব সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছেন। তিনি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সম্প্রতিকালে এলাকায় আসা-যাওয়া বাড়িয়ে দেওয়ায় ভিন্ন আমেজে রয়েছে তার দলের অনুসারীরা। নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীরাও রাজনীতি সক্রিয় হয়ে উঠছেন।

আ স ম আবদুর রব বলেন, আমি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এমন নির্বাচন চাই যেখানে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। রক্তারক্তি আর খুনোখুনি হবে না। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে। ভোটকেন্দ্র সবার জন্য সুরক্ষিত থাকবে।

আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন জেলা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ঢাকা মহানগর (উত্তর) যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজভীরুল হক অনু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সহ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুজ্জাহের সাজু ও কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. শামছুল কবির।

ফরিদুন্নাহার লাইলী সংরক্ষিত এ আসনের সাবেক এমপি ছিলেন। তিনি দলের দুঃসময়েও নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তাদের পাশের ছিলেন তিনি। দলের সকল কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছেন। রামগতি-কমলনগরের নদী ভাঙ্গন রোধ প্রকল্প বাস্তবায়নে তার ভুমিকা ছিল উল্লেখ্যযোগ্য। তিনি এ অঞ্চলের বেকারত্ব দুরে একাধিক লোকের কর্মসংস্থান করেছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এ উপকুলীয় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। কমলনগর-রামগতির মানুষের আপদ-বিপদে আমি সবসময় আছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি উপকুলীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।

মোহাম্মদ আবদুজ্জাহের সাজু বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। নদী ভাঙ্গন রোধসহ মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে লক্ষ্যে কাজ যাচ্ছি।
আগামী নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চাইব।

তাজভীরুল হক অনু বলেন, রামগতি-কমলনগরকে রক্ষা করতে সরকার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্ধে কাজ করিয়ে হাজার-হাজার গৃহহীণ মানুষ ও কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করেছে। শুধু এখানেই নয়, সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে আশাতীত উন্নয়ন হয়েছে। এজন্য জনগন আজীবন শেখ হাসিনাকে মনে রাখবে। আমি এ আসনের মানুষের পাশে সব সময় থাকতে চাই।

বিএনপি
দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মাঠে নামছে না বিএনপি। এছাড়াও নেতাকর্মীরা পুলিশী হয়রানি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা-মামলার কারনে তারা প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না।

দলটির নেতাকর্মীরা জানায়, নানা সীমাবদ্ধতা ও চাপের মুখে বিভিন্ন সময় আশরাফ উদ্দিন নিজান ও শফিউল বারী বাবু এলাকায় এসে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে তৎপরতা চালিয়েছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকালীন বিএনপি জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে।এতে দলের অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে জেলা কারাগারে রয়েছেন। দলের নেতাদের ভাষ্যমতে, আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

বিএনপির আমলে আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি রাস্তা-ঘাটসহ অবকাঠামোর উন্নয়ন করেছেন। দল থেকে যাকে টিকেট দেওয়া হবে, ভেদাভেদ ভুলে নেতাকর্মীরা সবাই একসঙ্গে তাকেই জয় করবেন।

বিএনপি থেকে রামগতি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সৈয়দ মোহাম্মদ সামছুল আলম ও কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের সহ-সভাপতি আবদুল মতিন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

আশরাফ উদ্দিন নিজান সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া সরকারের নীলনকশার কারণে কারাবন্দি। এখন নেত্রীর মুক্তি ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা করছি না।

বিনা খরচে দলের মামলা পরিচালনা করছেন এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ শামছুল আলম। প্রবীণ এ রাজনীতিবীদ জেলা বিএনপিরও সভাপতি ছিলেন। তিনি বলেন, আমি রাজনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অসহায়দের আর্থিক অনুদান দিয়ে ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

আবদুল মতিন চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য খালেদা জিয়া আন্দোলন করতে গিয়ে এখন কারাগারে আছেন। এখন নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আমি তৃনমূলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছি। রামগতি ও কমলনগরের মানুষের সেবা করার জন্যই আমি কাজ করবো।

বিকল্প ধারার মহা-সচিব মেজর (অবঃ) আব্দুল মান্নান এ আসনের প্রার্থী। এছাড়াও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে এডভোকেট মিলন মন্ডলকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন