শাফায়েত এখন বাদাম বিক্রেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: এক সময় স্কুল-কলেজ ও পথচারীদের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা নেওয়া ছিল তার স্বভাব। এরপর মাঝে মাঝে চা দোকান ও পৌরসভার অস্থায়ী ঝাড়ুদার হিসেবেও কাজ করতে দেখে গেছে। সেসব ছেড়ে শাফায়েত হোসেন সাগর এখন হাটে বাজারে বাদাম বিক্রি করছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শাফায়েতকে লক্ষ্মীপুর চকবাজার মসজিদ মার্কেটে বাদাম বিক্রি করতে দেখা যায়।
শাফায়েত লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সমসেরাবাদ এলাকার মৃত আক্তারুজ্জামানের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাফায়েত মেঝো। তার বড়ভাই শাহাদাত হোসেন পেশায় নির্মাণ শ্রমিক ও ছোট ভাই জোবায়েদ হোসেন নিরব মাদ্রাসাছাত্র।

জানা গেছে, পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে শাফায়েত পড়ালেখা করতে পারেনি। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হলেও পরবর্তীতে তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। একসময় জেলা শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা চাইতে দেখা যেতো। প্রায় ৩ বছর ধরে সেসব ছেড়ে একটি চা দোকান ও পরবর্তীতে ডিলারের অধীনে ফিল্টারের পানি বিক্রি করতে দেখা যায়। এরমধ্যে কয়েক মাস তাকে পোরসভার অস্থায়ী ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে। এরপর সে আবার বিভিন্ন জনের দৈনিক কাজ করে দিতো। এবার সব ছেড়ে নিজ উদ্যোগে সে বাদাম বিক্রির কাজ শুরু করেছ। তার মা বাদাম ভেজে দেয় আর সে হাটে বাজারে গিয়ে তা বিক্রি করে।
শাফায়েত হোসেন সাগর বলেন, গত তিনদিন ধরে আমি বাদাম বিক্রি করছি। প্রতিদিন দুই কেজি বাদাম বিক্রি করতে পারি। আমার এ কাজ চালু থাকবে। টাকা পয়সা চাওয়া মানুষ ভালো চোখে দেখে না। তাই সরে এসেছি।
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো. মুকবুল হোসেন নিলয় বলেন, শাফায়েতকে আগে কলেজের সামনেই বেশি দেখা যেত। এখন আর তেমন দেখা যায় না। তবে তাকে বাদাম বিক্রি করতে দেখায় খুব ভালো লেগেছে। এ কাজে সবাই তাকে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন।