লক্ষ্মীপুরে ২০০ বছরের বাজার রক্ষায় বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর, ২০২১ ৬:৫৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী থেকে দক্ষিণ তেমুহনী বাজার সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দোকানমালিক ও ব্যবসায়ীদের পথে বসানোর পাঁয়তারা করছে। সড়কের দু’পাশ থেকে জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে ওই গোষ্ঠীর প্রভাবে একপাশ থেকে নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাজার ধ্বংসসহ প্রায় ২ হাজার দোকানমালিককে পথে বসতে হবে।

সোমবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির নেতারা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বণিক সমিতির সহ-সভাপতি আবদুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বণিক সমিতির নেতা হাফিজ উল্যা, ফারুক হোসেন, এহতেশাম হায়দার বাপ্পী ও দোকানমালিক খসরু নোমান রতন প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাজার সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে একটি গোষ্ঠী নিজেদের সম্পদ বাঁচানোর জন্য চক্রান্ত করছে। এ চক্রান্তের শিকার হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ব্যক্তি মালিকানাধীন মার্কেট ও দোকান মালিকগণ। সরকারি জমির পরিবর্তে ওই চক্র ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের নিতে কাজ করছে। এতে ওই চক্রের বৃহৎ স্বার্থ রয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন মার্কেট ও দোকানঘরগুলো অধিগ্রহণ করলে ৭টি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকও (ভাড়া ভবন) উচ্ছেদ হবে। ঋণ নিয়ে এসব মার্কেট ও দোকানঘর নির্মান করেছেন মালিকরা। এখনো ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতেও পারেননি। জমি অধিগ্রহণে কানা চোখের কারণে প্রায় ২ হাজার দোকানমালিক ও ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়বে। ভিক্ষা ছাড়া তাদের কোন পথ থাকবে না। শত শত দোকান কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বে। এ সড়কটিতে রিকশা ও অটো রিকশা ছাড়া বড় যানবাহন চলাচল করে না। এতে প্রশস্তকরণের প্রয়োজন খুবই কম। প্রশস্তকরণ করতে হলে সড়কের দু’পাশ থেকে সমানভাবে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

এ ব্যাপারে সম্প্রতি বণিক সমিতি ও দোকানমালিকগণ জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জমি অধিগ্রহণ নোটিশ সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়ক ও লক্ষ্মীপুর-চরআলেকজান্ডার-সোনাপুর-মাইজদী সড়ক প্রশস্তকরন করা হবে। এতে সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন ২০১৭ সালের ২১ (৪) ধারায় দোকান মালিকদের নোটি প্রদান করা হয়েছে। এনিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে প্রস্তাবিত সম্পত্তি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আপত্তি করা যাবে। ৭ নভেম্বর থেকে থেকে অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত সম্পত্তির মালিক বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতিতে যৌথ তদন্ত হবে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন