লক্ষ্মীপুরে সড়কের কাজ পেতে ভুয়া সনদ ব্যবহারের অভিযোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ৩টি কাজ ভাগিয়ে নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। আবেদ মুনসুর কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ১৩টি কার্যালয়ে মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কৌশিক আহমেদ অভিযোগ করেছেন। শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) অভিযোগকারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ভুয়া সনদ দিয়ে অনলাইনে দরপত্র দাখিলের অভিযোগে আবেদ মুনসুর কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে ঢাকায় সওজের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কাজ পেতে টেন্ডার সিকিউরিটি ও কাজের তথ্যও গোপন রেখেছে বলে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিষয়টি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবেদ মুনসুর কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আবেদ মুনসুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে কৌশিক আহমেদ জানিয়েছেন, লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের দরপত্রে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। একই দরপত্রে আবেদ মুনসুর কনস্ট্রাকশনও অংশ নেয়। কিন্তু আবেদ মুনসুর ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দিয়ে কাজটি বাগিয়ে নিতে চাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবিদ মুনসুর কনস্ট্রাকশন কুড়িগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে বড় প্রকল্প হাতিয়ে নিতে সাতক্ষীরা জেলার ভুয়া কাজের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছেন। পরে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা সনদের সত্যতা যাচাই করেন। এতে দরপত্রের সঙ্গে দেওয়া অভিজ্ঞতা সনদ যাচাই করে তা ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়। পরে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম ও ১৩ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার সড়ক বিভাগকে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ আলাদা চিঠি দেন। একই চিঠি তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকেও পাঠিয়েছেন। কুড়িগ্রামের চিঠিতে বলা হয়, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দরপত্রে ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে পিপিআর-২০০৮ এর বিধি ও দরপত্রের শর্তানুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগ একই অভিযোগে চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
বর্তমানে মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি বলেন, ‘আমরা চিঠির মাধ্যমে ঘটনাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়কে অবহিত করেছি। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এখন তদন্ত চলছে।’
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়ক ভবনের প্রকিউরমেন্ট সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ ২৬ অক্টোবর আবেদ মুনসুর কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য সব অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি পাঠান। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল চিঠিতে। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদের মাধ্যমেই লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৩টি দরপত্রে অংশ নেয় বলে প্রমাণিত হয়।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। আমি তিন দিন হয়েছে দায়িত্ব নিয়েছি। বিস্তারিত বলতে পারছি না।’
টেন্ডার কমিটির সদস্য সচিব ও লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধান প্রকৌশলীই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’