লক্ষ্মীপুরে শিশুকে সিগারেটের ছ্যাকা, মামলা তুলে নিতে হুমকি

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২২ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরে প্লাস দিয়ে চামড়া টেনে জাকির হোসেন (১৪) নামের এক শিশুর শরীরে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকাসহ মারধরের ঘটনার মামলা তুলে নিতে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনেই মামলার দ্বিতীয় আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা গোফরান এ হুমকি দেয়।

গোফরান সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মধ্য চররমনী গ্রামের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে।

গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে জাকিরকে সিগারেটের ছ্যাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করে উত্তেজিত হয়ে উঠেন আওয়ামী লীগ নেতা গোফরান। তিনি বলেন, ‘ভয় দেখানোর জন্য শুধু হাতে সিগারেটের ছ্যাকা দিয়েছি। প্লাস দিয়ে মনিরসহ অন্যরা আঘাত করেছে। আমি তাদের ডাক দিয়েছি। এজন্য মামলা করতে হয়? আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ এলাকায় আমার উপরে কথা বলার কেউ নেই। এরা চোর। জাকিরের বাপ আলমগীরকে মামলা তুইল্লা নিতে কন। নইলে আমি কোপাইয়া মাইরা হালামু’।

জানতে চাইলে গোফরান বলেন, জাকির আমার আত্মীয়ের ঘর থেকে দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা চুরি করেছে। এজন্য তাকে ধরে এনে টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে।

জাকিরের বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিরা আমাকে বাড়িতে এসে হুমকি দিচ্ছে। দ্রুত মামলা না তুলে নিলে আমাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেবে বলেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমি এ ঘটনার সুষ্টু বিচার চাই।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত চলছে। খুব দ্রুত এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (২৬ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি (সদর) আদালতে জাকিরের বাবা আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে গোফারানসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন দেলোয়ার হোসেন, মনির হোসেন, মাকছুদ আলম, মো. মনির ও শাহ আলম। তারা সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের চররমনী গ্রামের বাসিন্দা। বাদী আলমগীর একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় শ্রমিক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের সঙ্গে আলমগীরের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। সেই জের ধরে মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সকালে অভিযুক্ত শাহ আলমের ঘরে ডেকে নেওয়া হয় আলমগীরের ছেলে জাকিরকে। এ সময় তাকে চেয়ারে বসিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলেন অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে তাকে (জাকির) বেদম পিটিয়ে প্লাস দিয়ে চামড়া টেনে শরীরের বিভিন্ন অংশে সিগারেটের আগুন লাগিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয়। এরপর হাতের আঙুলে সুই ঢুকিয়ে নির্যাতন করা হয়। সবশেষ চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে তাকে সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। পরে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় ছেলেকে উদ্ধার করেন আলমগীর। কিন্তু অভিযুক্তদের ভয়ে ঘর থেকে বের করে ওই কিশোরকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনার পাঁচদিন পর তাকে গোপনে সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন