লক্ষ্মীপুরে ধান সংগ্রহ: সিন্ডিকেটের আনাগোনা গোডাউনে !
লক্ষ্মীপুরে সরকারের নির্ধারিত মণ প্রতি ১ হাজার ৪০ টাকা মূল্যে আমন ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। এবার এই জেলায় ৮ হাজার ২৬২ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে। প্রত্যেক কৃষক ৩ মণ থেকে ১ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন। তবে ধান বিক্রয়ে কৃষকদের পরিবর্তে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে প্রথম দিন কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হলেও পরবর্তীতে এ ধারা অব্যাহত রাখা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ধান কেনা অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর পরই গোডাউনের আশ-পাশে চিহ্নিত কয়েকজন সিন্ডিকেটের লোকজনের আনাগোনা দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
গেল আউশ মৌসুমে সিন্ডিকেটের ধানে গুদাম ভর্তি করা হয়েছে। কৃষকরা হয়েছিল ক্ষতিগ্রস্ত। এনিয়ে গুদামের সামনে বস্তা ভর্তি ধান স্তুপ করে বিক্ষোভ করেছিল কৃষকরা। এখনো অনেক কৃষকের ঘরে আউশ ধান জমা হয়ে আছে। দাম কম হওয়ায় ধান বিক্রি করতে পারেননি তারা। আবার অনেকে অর্থ সংকটে কম দামেই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।
আজ শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম কার্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জন চন্দ্র পাল ধান ক্রয় উদ্বোধন করেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন) শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিলের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাহেদ উদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রামীম পাঠান প্রমুখ।
জেলা খাদ্য গুদাম সূত্র জানায়, এবার সরকারের নির্ধারিত মণ প্রতি ১ হাজার ৪০ টাকা মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে লক্ষ্মীপুরে ৮ হাজার ২৬২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে সদরে ২ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন, রায়পুর ১ হাজার ১৭৫ মেট্রিক টন, রামগঞ্জ ৩৫২ মেট্রিক টন, রামগতি ২ হাজার ৪৭৬ মেট্রিক টন, কমলনগর ২ হাজার ৫১ মেট্রিক টন। একজন কৃষক ৩ মণ থেকে ১ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন। ধান কেনার জন্য লটারির মাধ্যমে কৃষকদেরকে বাছাই করা হচ্ছে। লটারিতে যেসব কৃষকদের নাম উঠবে তারাই ধান বিক্রি করতে পারবেন। ব্যাংক হিসেবের মাধ্যমে প্রত্যেক কৃষককে টাকা পরিশোধ করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেন, আউশ মৌসুমে ধান বিক্রি করতে নিয়ে গেলে গুদাম কর্তৃপক্ষ ভেজা বলে ফেরত পাঠায়। আবার শুকিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরও তাদের ধান কেনা হয়নি। ব্যাংক হিসাব, কৃষি কার্ড থাকলেও ধান বিক্রি করতে পারেননি তারা। সিন্ডিকেটের দৌরাত্মের কারণে তারা ধান বিক্রি করতে পারেনি।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, অনেক সময় কৃষকরা ক্ষেত থেকেই ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করে দেয়। সরকার বেশি মূল্যে ধান কিনছে, সেটি তারা জানেন না। সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে কৃষক উদ্বুদ্ধ হলে মধ্যস্ততাকারীদের দৌরাত্ম আর থাকবে না। ধান কেনার বিষয়টি কৃষকদের জানাতে হবে।