লক্ষ্মীপুরে ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ খাদ্য বিভাগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:লক্ষ্মীপুরে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। সোমবার (৩১ আগস্ট) ধান ক্রয়ের শেষ দিন বিকেল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৪০ দশমিক ১ ভাগ ধান সংগ্রহ হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকের লোকসান ঠেকাতে ভর্তুকি দিয়ে ধান সংগ্রহ করে সরকার।
এদিকে হয়রানির কারণে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহে কৃষকদের আগ্রহ কম ছিল। চলতি বোরো মৌসুমে বাজারেও ধানের দাম পাওয়া গেছে। এতে ধান সংগ্রহের টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হয়েছে খাদ্য বিভাগ।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, বোরো মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ৫ হাজার ২২৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ৭ মে থেকে ধান সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। একজন কৃষক খাদ্য গুদামে সর্বনিম্ন ৩ মণ থেকে সর্বোচ্চ ৬ টন ধান সরবরাহ করতে পেরেছে। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জেলা সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় ২ হাজার ৯৫ টন ৭২০ মণ ধান সংগ্রহ করা হয়। এ হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার ৪০ দশমিক ১ ভাগ ধান সংগ্রহ হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষ্মীপুর সদর ও রায়পুর উপজেলার দুইজন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জানায়, বিগত মৌসুমগুলোতে বাজারে ধানের মণ ছিল ৫৮০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। তখন কৃষকরা গোডাউনে ধান দেওয়ার জন্য বিক্ষোভ পর্যন্ত করেছিলেন। এ মৌসুমে বাজারে তা ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া কৃষি কার্ড ও হয়রানির কারণে সরকারিভাবে ধান বিক্রিতে আগ্রহ কম ছিল কৃষকদের।
রামগঞ্জ উপজেলার খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) ইসমাইল হোসেন বলেন, মাঠে এবার বেশি ধান উৎপাদন হয়নি। এরমধ্যে বাজারমূল্য বেশি এবং কৃষকরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য মজুদ রাখায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করা যায়নি।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মংখ্যাই বলেন, আমরা ধান সংগ্রহের চেষ্টা করেছি। লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪০ ভাগ ধান কেনা হয়েছে। এবার বাজারে দাম বেশি থাকায় সরকারি গুদামে সরবরাহে কৃষকের আগ্রহ কম ছিল।