লক্ষ্মীপুরে কবরস্থানের জমি নিয়ে মারামারি, মামলার নির্দেশ আদালতের

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ৯:২৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুর বিরোধপূর্ণ কবরস্থানের জমিতে বেড়া দেওয়ার প্রতিবাদ করায় এক বিধবা নারীসহ ৬জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার জন্য ভূক্তভোগী রেহানা বেগম সোমবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সদর আদালতে ৩ জনের নামে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে আদালতের বিচারক আবু ইউসুফ মামলা (এফআইআর) নিতে সদর মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বাদী পক্ষের বিরুদ্ধেও অভিযুক্তদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

বাদীর আইনজীবী মনোয়ার হোসেন বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন। দ্রুত সময়ে মধ্যে এফআইআর দাখিলের জন্য সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

অভিযুক্তরা হলেন সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত শাহাব উদ্দিন, আরাফাত হোসেন ও আব্বাছ হোসেন।

এজাহার সূত্র জানায়, বাদী রেহানা সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের মৃত মাহাববুল ইসলামের স্ত্রী। বাড়ির সামনেই তাদের পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। যেখানে তার স্বামীসহ স্বজনদের কবর দেওয়া হয়। কিন্তু মারা যাওয়ার আগে তার ননদ ছখিনা খাতুন কবরস্থান এলাকায় ১৯ শতাংশ জমি শাহাব উদ্দিনের কাছে বিক্রি করে। এদিকে জমিটিতে স্বামীসহ স্বজনদের কবর থাকায় অন্যস্থানে শাহাব উদ্দিনকে জমি দেওয়ার কথা জানায় রেহানাসহ পরিবারের সদস্যরা। এনিয়ে একাধিকবার সালিসি বৈঠকও হয়। শাহাব উদ্দিন বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানলেও পরবর্তীতে জমিটি দখলে নেওয়ার জন্য কবরস্থানের চারপাশে বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করে। ২২ নভেম্বর বেড়া দিতে গেলে তাকে নিষেধ করে রেহানা ছেলে ফিরোজ আলম। এতে শাহাবুদ্দিনসহ অভিযুক্তরা তাকে মারধর করে। পরে রেহানার বড় ছেলে মো. রাশেদ এসে কারণ জানতে চাইলে তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেয় তারা। ওই ঘটনার জের ধরে ২৪ নভেম্বর শাহাবুদ্দিন বহিরাগতদের নিয়ে এসে রেহানার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় রেহানা, তার ছেলে ফিরোজ ও রাশেদসহ ৬ জনকে পিটিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। পরে আশপাশের লোকজন এলে তারা পালিয়ে যায়।

রেহানা বেগমের ছেলে মো. রাশেদ বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিতে আমার বাবা-ফুফুসহ স্বজনদের কবর রয়েছে। এতে ওই জমির পরিবর্তে অন্যস্থানে জমি দেওয়ার জন্য বলেছি। কিন্তু শাহাব উদ্দিন জমিটি দখলে নেওয়ার জন্য আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের ঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে শাহাব উদ্দিন বলেন, জমিটি আমার ক্রয়কৃত। সেখানে কোন কবর নেই। জমি ক্রয়ের পর সেখানে আমি গাছপালা লাগিয়েছি। পাশেই নিরাপত্তা দেওয়াল বেষ্টনিতে আলাদা কবরস্থান রয়েছে। এরপরও রেহানা ও তার ছেলেরা জমিতে গেলে আমাদের বাধা দিচ্ছে। এছাড়া ২৪ নভেম্বর রেহানার ছেলে ফিরোজ আমার বাগানের সুপারি চুরি করেছে। তাকে হাতেনাতে ধরেছি। এনিয়েই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমি ও আমার ছেলে তোজাম্মেল ইবনে সাবিতের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় আমরা সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেছি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন