রাস্তায় চা বিক্রি করেও গোল্ডেন ‘এ প্লাস’ পেয়েছে সৌরভ

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর, ২০২২ ৬:০৯ অপরাহ্ণ

রাস্তায় ফ্লাক্স হাতে নিয়ে চা বিক্রি করে সংসারের হাল ধরা সৌরভ কুমার শীল পেয়েছে গোল্ডেন এ প্লাস। নাটোরের সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে সে। সিংড়া পৌর শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার শ্যামল কুমার শীল ও স্বপ্না রানী শীলের ছেলে সৌরভ।

যে বয়সে সবাই হেসে-খেলে বেড়ায় আর পড়াশোনা করে সে বয়সে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করে সৌরভ কুমার। সৌরভের স্বপ্ন লেখাপড়া শেষ করে ইঞ্জিনিয়ার হবে। কুঁড়েঘরে বসবাস করেও সৌরভের গোল্ডেন এ প্লাস জয়ে জীবনযুদ্ধে হার না মানার গল্প ফুটে উঠেছে।

মেধাবী শিক্ষার্থী সৌরভ কুমার শীল বলেন, অভাব-অনাটনের মধ্যে ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরে তার জন্ম। তার বাবা শ্যামল কুমার শীল রাস্তায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। আর তার ছোটবেলা থেকেই অন্যের ধার করা বই-খাতা নিয়ে পড়াশোনা শুরু হয়। কিন্তু হঠাৎ তার বাবা ডায়াবেটিস, পেসার ও কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হন। তারপর সংসারের বোঝা তার কাঁধে তুলে নিতে হয়। ৩ বছর ধরে বাবার চা বিক্রির ফ্লাক্স হাতে নিয়ে সারাদিন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করেন। এখন তার জীবনযুদ্ধের সঙ্গী অসুস্থ বাবা আর গৃহিনী মা।

সৌরভের বাবা শ্যামল কুমার শীল বলেন, আমাদের নিজস্ব কোনো জায়গা-জমি নেই। সরকারি জায়গায় ছোট্ট একটি ভাঙা কুঁড়েঘরে ঠাঁই। রোদ-বৃষ্টিতে অনেক কষ্ট করতে হয়। বর্তমানে ছেলের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দূশ্চিন্তায় আছি।

স্থানীয় মিজানুর রহমান ও মারুফ হোসেন বলেন, চায়ের ফ্লাক্স হাতে ছেলেটিকে প্রতিনিয়তই বাসষ্ট্যান্ড, বাজার, চলনবিল গেট এলাকায় দেখি কিন্তু কখনও ভাবিনি সে একজন মেধাবী ও গরীব ঘরের ছেলে। সরকার ও সামর্থ্যবানদের উচিত সৌরভ কুমারের পাশে দাঁড়ানো।

সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, সৌরভ কুমার শীল অত্যন্ত মেধাবী একজন ছেলে। ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে তার লেখাপড়া ফ্রি করানো হয়েছে। সৌরভের গোল্ডেন এ প্লাস জয়ে আমরা আনন্দিত।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন