রামগঞ্জে সরকারি দিঘির বালু লুটের মচ্ছব

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০১৯ ৭:৫১ অপরাহ্ণ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর বকুলতলা দিঘিতে ড্রেজিং লাগিয়ে বালু লুটের মহোৎসব চলছে। উপজেলা চেয়ারম্যান কার্যালয়ের সিএ ফয়েজ আহমেদ এবং লক্ষ্মীপুরের ঠিকাদার শামীম আহমেদ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বালি লুট করায় বর্তমানে দিঘির পূর্ব ও উত্তর পাশে বসবাসকারী এবং পশ্চিম পাড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে।

দিঘি সংস্কারের অজুহাতে বালু লুট বন্ধ করতে সম্মিলিত গ্রামবাসী, ব্যবসায়ী, ভূমির মালিকগণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫নং চণ্ডিপুর ইউনিয়নের বকুলতলা বাজারের পাশে এক একর বায়ান্ন শতাংশ খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তিতে অবস্থিত দিঘি সংস্কার করতে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দ দেয়। সে অনুযায়ী মেসার্স মেঘনা কনস্ট্রাকশন কাজটির টেন্ডার পেয়ে শামীম আহমেদ নামের আরেক ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেয়। শামীম সংস্কার কাজে বিশালাকার ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে বালু উঠিয়ে বিক্রি শুরু করেন।

দিঘির দক্ষিণের ভূমির মালিক মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, শামীম মোটা অংকের টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে রামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কার্যালয়ের সিএ ফয়েজ আহমেদের পশ্চিম চন্ডিপুর গ্রামের বাড়ির পাশে একটি পুকুর ভরাট করছে। অথচ দিঘির পাড় রক্ষার্থে আমরা গাইট ওয়াল নির্মাণ করে দিলেও সেখানে বালি দেয়া হয় না। আমরা গ্রামবাসী, ব্যবসায়ী, ভূমির মালিকরা পৃথকভাবে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন স্থানে বালি তোলা বন্ধ করতে আবেদন করেছি।

উপজেলা চেয়ারম্যান কার্যালয়ের সিএ ফয়েজ আহমেদ বলেন, ঠিকাদার পাইপ লাইন দিয়ে আমার বাড়ির পাশে বালু নেয়ার কাজ শুরু করলে আমি বাধা দিই।

ঠিকাদার শামীম আহমেদ বলেন, টেন্ডার অনুযায়ী ৬ ফুট বালি উত্তোলন করে যে কোনো স্থানে নিয়ে যেতে পারবো। গাইট ওয়াল নির্মাণকারীদের বালু দিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালি উত্তোলন করলে বসবাসকারী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে লক্ষ্মীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ টেন্ডার দিলো কেন!

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন