রামগঞ্জের সেই ‘খাই খাই’ চেয়ারম্যান রানা ক্ষমা পাচ্ছেন অঙ্গীকারে
নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাময়িক রবখাস্ত হওয়া সেই ‘খাই খাই’ চেয়ারম্যান মো. হোসেন রানা অঙ্গীকারনামা দেওয়ার শর্তে প্রথমবারের মতো ক্ষমা পাচ্ছেন। তিনি ভবিষ্যতে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় এবং আইন-শৃঙ্খলা সভাসমূহে উপস্থিত থাকবেন বলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে অঙ্গীকারনামা দিবেন।
সোমবার (২ আগস্ট) লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানিয়েছেন, ইউপি চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি আমি পেয়েছি। অঙ্গীকারনামা দেওয়ার পর ওই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বহাল হবে।
এরআগে রবিবার (১ আগস্ট) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবু জাফর রিপনের সই করা এক চিঠিতে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছেন। চিঠিতে বলা হয়, মো. হোসেন রানা ভবিষ্যতে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় এবং আইন-শৃঙ্খলা সভাসমূহে উপস্থিত থাকবেন মর্মে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে অঙ্গীকারনামা প্রদানের শর্তে প্রথমবারের মতো তঁাকে ক্ষমা করা হল। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১০ জুনের তঁার সাময়িক বরখাস্ত সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করা হল।
প্রসঙ্গত, ৩ এপ্রিল কালের কণ্ঠের শেষ পাতায় ‘শুধু খাই খাই করেন’ চেয়ারম্যান রানা-শীরোনামে ছবিসহ একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। একই বিষয়ে ১৬ কালের কণ্ঠে সেই ‘খাই খাই’ চেয়ারম্যান বরখাস্ত শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। রানা নোয়াগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। স্থানীয় অনেকেই তাঁকে ‘খাই খাই’ চেয়ারম্যান বলে অভিহিত করনে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান রানার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যাতিরেকে বিদেশভ্রমন, মৃত ব্যক্তিকে জীবিত ও প্রবাসী ব্যক্তিকে দেশে কর্মসংস্থান দেখিয়ে শ্রমিকের টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎসহ ৮টি অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয় তদন্তে প্রমানিত হয়। এ প্রেক্ষিতে তাকে ১০ জুন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবু জাফর রিপন এক চিঠিতে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
এ বিষয়ে মো. হোসেন রানা বলেন, এমপি আনোয়ার খান সহযোগিতা করে আমার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করিয়েছেন। আমি এখন ঢাকায় আছি। লক্ষ্মীপুর ডিসি অফিসে গিয়ে অঙ্গীকারনামা দেবো।