রমযান সবচেয়ে মর্যাদাশীল ও বরকতময় মাস

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল, ২০২০ ১১:১৯ অপরাহ্ণ

রমজান মাস বছরের অন্য এগারো মাসের চেয়ে অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতময়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যখন রমজানের আগমন হয় তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।’ (বোখারি, হাদিস : ১৮৯৯)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৬৯৮)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান পেল অথচ নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারেনি, সে হতভাগা।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৯০৮)

তাই এ মাস হেদায়েতপ্রাপ্তির মাস, গুনাহ মাফের ও ক্ষমা অর্জনের মাস। আল্লাহতায়ালার রহমত ও বরকত লাভের মাস এবং জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার মাস। সুতরাং এ মাসে অধিক ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা এবং তাওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে ক্ষমা অর্জন লাভে সচেষ্ট হওয়া সবার কর্তব্য।

এ মাসের রোজাকে আল্লাহতায়ালা ফরজ করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

তাই প্রত্যেক সুস্থ ও বালেগ মুসলিম নর-নারীর জন্য রোজা রাখা অপরিহার্য। বলাবাহুল্য, ফরজ ইবাদতের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহতায়ালার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জন করে। কাজেই নফল ইবাদতে কিছু ত্রুটি হলেও ফরজ-ওয়াজিবে ত্রুটি হওয়া উচিত নয়। বরং গুরুত্বের সঙ্গে তা পালন করা উচিত।

পানাহার ও স্ত্রীসহবাস থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সর্ব ধরনের অনাচার-অশ্লীলতা থেকেও বেঁচে থাকা রোজাদারের কর্তব্য। রাসুল (সা.)-এর এ বাণী রোজাদারের সর্বদা স্মরণ রাখা কর্তব্য, ‘রোজা শুধু পানাহার ত্যাগের নাম নয়, বরং অশ্লীল ও অর্থহীন কাজ থেকেও বেঁচে থাকা জরুরি।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১৯৯৬)

অতএব কেউ যদি রোজাদারের সঙ্গে ঝগড়া করতে থাকে কিংবা মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করতে থাকে, তখন এ কথা ভেবে নিজেকে সংযত রাখবে যে, আমি রোজাদার, আমি রোজাদার।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৩৪৭০)

কাজেই রোজাদারের রোজার পূর্ণতার জন্য সব ধরনের অন্যায়-অশোভন কাজ থেকে বিরত থাকাও কর্তব্য।

রোজাদার চোখ, মুখ, কান ও প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের হেফাজত করে সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার অঙ্গীকারে আবদ্ধ হতে হবে, যাতে সে মহানবী (সা.)-এর ঘোষিত এই সাবধান বাণীর আওতায় না পড়ে যায় যে, ‘কোনো কোনো রোজাদার এমনও আছে, রোজা দ্বারা যার শুধু ক্ষুৎপিপাসায় অর্জিত হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস : ১৬৯০)

আল্লাহতায়ালা রমজানকে খায়ের ও বরকত, তার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন এবং মুমিনের জন্য গোটা বছরের ইমানি শক্তি অর্জনের কেন্দ্র বানিয়েছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘এ মাসে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে, ‘হে কল্যাণ অন্বেষী, অগ্রসর হও; হে অকল্যাণের পথিক, থেমে যাও।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৮২)

এসবের প্রভাবে রমজান মাসে চেতনে বা অবচেতনে ভালো কাজের দিকে আগ্রহ বাড়তে থাকে। যারা সৌভাগ্যবান, তারা এই আসমানি আহ্বানকে মূল্য দেয় এবং ইবাদত-আমল অব্যাহত রাখে। হাদিসের ভাষায়, ‘আল্লাহতায়ালার কসম! মুসলমানের জন্য এর চেয়ে উত্তম মাস আর নেই আর মুনাফিকের জন্য এর চেয়ে ক্ষতির মাসও আর নেই। মুসলমান এ মাসে ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সঞ্চয় করে (গোটা বছরের জন্য)।’

হাদিসে আরও এসেছে, ‘এ মাস মুমিনের জন্য গনিমত ও মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ।’ (মুসনাদে আহমদ : ২/৩৩০) হাদিসের মর্মার্থ হলো, রমজানের কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত থাকা মুনাফিকির প্রমাণ বহন করে।

আল্লাহতায়ালা আমাদের মুনাফিকি (বিশ্বাসঘাতকতা) থেকে রক্ষা করুন এবং মুমিনের মতো এ মাসের ইস্তিকবালের তাওফিক দান করুন। মুমিনের মতোই এই মূল্যবান সময় কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন।

মাহে রমজান সবার জীবনে মোবারক হোক। শুভ, কল্যাণকর ও ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনুক। ব্যক্তি ও সমাজজীবনের সব পঙ্কিল ও আবিলতা দূর হয়ে যাক।

মাহে রমজানের শিক্ষায় সবার চিন্তা-চেতনা, কথা-কাজ ও আচরণ-উচ্চারণে আলোকিত হয়ে উঠুক।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন