‘যদি আমি ঝরে যাই একদিন কার্তিকের নীল কুয়াশায়’
নিঃসঙ্গতার কবি জীবননান্দ দাশ হেমন্তকে যতই ‘বিষণ্নতার ঋতু’ বলে থাকুন না কেন, পহেলা কার্তিকের হাত ধরে চিরায়ত বাংলায় আজ সোমবার (১৬ অক্টোবর) হেমন্ত এসেছে। অনাগত শীতের আগাম নরম ছোঁয়াকে উষ্ণতায় ভরিয়ে দিয়ে মানুষের একক কিংবা সমবেত মন-প্রাণ নেচে উঠেছে পুলকে পুলকে: ‘আবার জমবে মেলা বটতলা হাটখোলা অঘ্রানে নবান্নে উৎসবে/সোনার বাংলা ভরে উঠবে সোনায়, বিশ্ব অবাক চেয়ে রবে।’
হেমন্ত আসে চুপি চুপি। ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’ বলে কোনও কবি খবর জানান নি হেমন্তের। কাতির্ক আর অগ্রহায়ণ দু’টি মাস পেলেও হেমন্ত বড়ই নিশ্চুপ আর সংক্ষিপ্ত ঋতু। শুরুটা মিশে থাকে শরতের উষ্ণ-উজ্জ্বলতায়; শেষটা চলে যায় শীতের শরীরে। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে তাই হেমন্তকে টের পাওয়া যায় না খুব একটা। মানুষ ও প্রকৃতিকে আলগোছে ছুঁয়ে দিয়ে হেমন্ত আসে, আবার চলেও যায়।