মধ্যরাতে ইলিশ শিকারে মেঘনায় নামবেন লক্ষ্মীপুরের ৬০ হাজার জেলে

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২২ ৯:০১ অপরাহ্ণ

টানা দুই মাস পর শনিবার (৩০ এপিল) রাত ১২টার পর থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরা। লক্ষ্মীপুরের চারটি উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলেদের মাছ শিকারে আর কোনো বাধা থাকছে না। এতে ইলিশ শিকারের আনন্দে মেঘনা নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলার প্রায় ৬০ হাজার জেলে।

ইতোমধ্যে জেলেরা নদীতে নামার বেশ প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন। অবসর সময়ে ঠিকঠাক করে নিয়েছেন জাল-নৌকাসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শনিবার রাত ১২টা থেকে জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে নামবেন। জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে মাছ শিকার নিষিদ্ধ করে সরকার। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে নদীতে মাছ ধরার সময় হওয়ায় জেলে পরিবারগুলোতে উৎসব বিরাজ করছে। শনিবার রাত থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়বেন বেকার জেলেরা। এতোদিন যেসব আড়তে ছিল সুনশান নিরবতা সেইসব আড়তে জেলে, মৎস্যজীবী ও আড়তদারদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠবে। মাছ ধরে বিগত দিনের ধার-দেনা শোধ করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদী জেলেরা।

এদিকে দুই মাস জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে লক্ষ্মীপুরের নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও অনেক জেলেই এখনো চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে জেলা মৎস অফিস বলেছে ইতিমধ্যে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল জাটকা ইলিশ বৃদ্ধির সময়। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দুই মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। নিষেধাজ্ঞা থাকায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এ সময় মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি ছিল নিষিদ্ধ।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় নৌ-পুলিশের সঙ্গে জেলেদের সংঘর্ষে আমির হোসেন (৩০) নামে এক জেলে নিহত হন। এ সময় আহত হর নৌ-পুলিশের পাঁচ সদস্য, একজন স্পিডবোট চালক ও ১০ জেলে। এছাড়া আইন অমান্য করায় বেশ কয়েকজন জেলের জেল-জরিমানা করা হয়। অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করা হয় জাল।

মেঘনা নদীর বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশ ধরার জন্য জেলেরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শনিবার মধ্যরাত থেকে মাছ ধরা শুরু, তাই ঘাটে ঘাটে দেখা যাচ্ছে প্রস্তুতি। কেউ জাল বুনছেন কেউ নৌকায় রং দিচ্ছেন কেউবা ট্রলার-নৌকা মেরামত করছেন। নতুন উদ্যামে ফের নদীতে নামার প্রস্তুতি উপকূলের জেলেদের। দুই মাস বেকার সময় পার করার পর ইলিশ ধরার উৎসবে মেতে উঠবেন এমন স্বপ্ন তাদের চোখ-মুখে। মেঘনায় আহরিত সেই মাছ বিক্রি করে সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদী তারা।

 

জেলে হারুন, ইসমাইন, আবদুল হাই ও জামাল উদ্দিন জানান, এতোদিন মাছ ধরা বন্ধ ছিল, তাই নদীতে যাইনি। এখন মাছ ধরা শুরু হচ্ছে। আমরা নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

অভিযান সফল হওয়ায় নদীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে বলে মনে করছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাছ ধরতে এখন আর বাধা নেই। জেলেরা উৎসবমুখর পরিবেশে মাছ ধরতে নেমে পড়বেন। আমরা আশা করছি এবার ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে মাছ ধরার বন্ধ ছিল। এ সময় জেলার নিবন্ধিত জেলেদেরকে পুনর্বাসনের চাল দেওয়া হয়।

 

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন