ফেনীর রেড জোনগুলোতে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২০ ১১:১৬ অপরাহ্ণ

করোনা রোগী শনাক্তের ভিত্তিতে ফেনী শহর ও জেলার আটটি স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে রেড জোন হিসেবে। করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ফেনী পৌরসভার ডাক্তারপাড়া, রামপুর, শান্তি কোম্পানি রোড ও দাগনভূঞা উপজেলার পৌরসভা, ইয়াকুবপুর, পূর্বচন্দ্রপুর, রাজাপুর ইউনিয়নগুলো এবং ছাগলনাইয়া পৌরসভাকে লকডাউন করা হয়েছে। এ আটটি স্থানে চলছে সর্বাত্বক লকডাউন।

শুক্রবার (১২ জুন) শহরের ফেনী শহরের ডাক্তারপাড়া, শান্তি কোম্পানি রোড ও রামপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় লকডাউনের চিত্র।

একদিন আগেও এসব এলাকার রাস্তাঘাটে ছিল লোকজনের উপস্থিতি। আজ সেসব এলাকার রাস্তাঘাটে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। এলাকগুলোর প্রবেশ মুখে দেওয়া হয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড। নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে লোক চলাচলে। সড়কের মোড়ে মোড়ে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে পাহারা। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট।

ফেনী পৌরসভার রেড জোন চিহ্নিত ডাক্তারপাড়া (১০ নম্বর ওয়ার্ড), (রামপুর ১৬ নম্বর ওয়ার্ড) ও শান্তি কোম্পানি রোড (১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় চলছে লকডাউন।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় লকডাউন চলবে বলে জানিয়েছেন ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহতাব উদ্দিন মুন্না।

তিনি জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করায় প্রশাসন ও পৌরসভার নির্দেশে লকডাউন পালন করা হচ্ছে। লকডাউন বাস্তবায়ন করতে গত বুধবার (১০ জুন) ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে। এলাকার মুরুব্বী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা এতে সহযোগিতা করছেন।

তিনি বলেন, লকাডাউনকৃত এলাকায় সবপ্রকার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও
রাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে। ওইসব এলাকায় কোনো বহিরাগত প্রবেশ করতে পারবে না। ওইসব এলাকার লোকজন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেতে পারবে না। তাদের আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করতে হবে। তবে এলাকার কোনো লোকজন সমস্যায় পড়লে আমাদের জানালে আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি।

১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ জানান, জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর পরামর্শক্রমে ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সংক্রমিত কিছু এলাকায় লকডাউন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, লকডাউন পালনে মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাড়া দিচ্ছে।

তবে করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকদিন বন্ধ থাকার পর হঠাৎ লকডাউন ঘোষণা করায় একটু সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয়রা।

শহরের মিজান রোড় সোনালী ব্যাংক শাখা ম্যানেজার আবদুল মান্নান বলেন, লকডাউন হলেও আমাকে ব্যাংকে যেতে হবে। কারণ আমার কাছে ব্যাংকের চাবি রয়েছে। তারপর ব্যাংক আমাকে লকডাউনের কারণে ছুটিও দেয়নি।

অবশ্য লোকজনের একটু সমস্যা হলেও তারপরও এটি সবার মেনে চলা উচিত বলছেন ডাক্তারপাড়ার বাসিন্দা ফেনী চেম্বারের পরিচালক আবুল কাশেম।

তিনি বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনা করেই প্রশাসন এ নির্দেশনা জারি করেছে। সমস্যা হলেও সবার এ নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।

এর আগে গত বুধবার এসব এলাকায় করোনা ভাইরাস কার্যকর ও অধিক দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ফেনী পৌর এলাকার সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি এলাকায় লকডাউনের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সদর উপজেলা প্রশাসন।

বিজ্ঞপ্তিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাসরীন সুলতানা জানান, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ওইসব এলাকা লকডাউন থাকবে।

অপরদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ছাগলনাইয়া পৌরসভা এলাকা লকডাউন ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা উপজেলা কমিটির সভাপতি সাজিয়া তাহের।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান জানান, দাগণভূঞার সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত এলাকাগুলো ২৫ জুন পর্যন্ত লকডাউন করা হয়েছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য ও সুপারিশ
অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে। লকডাউনের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ,
উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে আলোকে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

শুক্রবার নতুন করে আরও ৪১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৭২ জন। সুস্থ হয়েছেন ৯১ জন। মারা গেছেন নয়জন। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও অর্ধ শতাধিক মানুষ।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন