ফেনীতে ভাঙা কালভার্টে জনদুর্ভোগ

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২:৩৯ অপরাহ্ণ

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বাগাদানা ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের রাস্তাসহ চারটি কালভার্ট ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে গত এক বছর ধরে। এতে এলাকার হাজারো মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রতিনিয়ত এসব ভাঙা অংশে ঘটছে দুর্ঘটনা। দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তা ও কালভার্টগুলো ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষ বেখবর বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

অপরিকল্পিত পুন:খাল খনন করায় কালভার্ট থেকে মটি সরে গেছে বলে অনেকে মনে করেন।

এলাকাবাসীর জানান, উপজেলার আলমপুর গ্রামের নুরুল হক মেম্বার সড়ক ও কালভার্ট পুরোপুরি ভেঙে গেছে। সড়কের মাটি সরে গিয়ে দুই মিটার বড় গর্তের সৃষ্টি করেছে। কালভার্টের একপাশের ঢালাই ভেঙে রড বের হয়ে গেছে। অন্যদিকে, একই এলাকার রফিকের বাড়ি থেকে ভারেন্দ্র কুমার শীলের বাড়ি পর্যন্ত পরপর তিনটি কালভার্ট ভেঙে বেহাল দশা। এর মধ্যে একটি একপাশে আড়াআড়ি ঢালু অবস্থায় ও অপর দুইটির উপরের অংশ ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ-মক্তবে যাতায়াতে কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়ছে। চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিশু, রোগী, বৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও গর্ভবতীরা। সড়ক ও কালভার্টের বিকল্প পথ তৈরি না করায় বেশি বিপাকে পড়ছেন স্থানীয়রা।

ওই এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ ফকির ময়া ও আবুল বাসার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টগুলো ভেঙে আছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অনেকবার বলেও কোন প্রতিকার হচ্ছে না। সবধরনের যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় কোন আত্মীয় স্বজন ইচ্ছে করলেও বাড়িতে আসতে পারে না। বিপদে রোগীদের নিয়ে হাসপাতাল যেতে কষ্ট হয়। আমরা জানি না কবে আমাদের এই দুঃখ শেষ হবে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন বাবুল বলেন, ‘স্ক্যাভেটর মেশিন দিয়ে খাল খননের সময় কালভার্টগুলো ভেঙে পড়ে এবং রাস্তার মাটি সরে যায়। এতে এলাকাবাসী সীমাহীন কষ্টে যাতায়াত করছে। এগুলো সংস্কারের ব্যাপারে আমি চেয়ারম্যানকে বেশ কয়েকবার জানিয়েছি, কিন্তু সংস্কার হচ্ছে না।’

এ বিষয়ে বগাদানা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ক.খ.ম ইসহাক খোকন বলেন, ‘কালভার্টগুলো সংস্কারের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। এলজিইডি থেকে কখন বরাদ্দ আসবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা।’

অন্যদিকে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি, জনগণের কষ্টলাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন