ফুলপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী নিহত
ফুলপুর প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলায় ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের শেরপুর রোড গোলচত্বর নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফাইজুল ইসলাম আশিফ (২৫) নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার রাত ৮টায় শেরপুরগামী ট্রাক যাত্রীবাহী একটি রিকশাকে চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন রিকশাচালক আবুল হাশেম। নিহত আশিফ ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের বড়ইকান্দি গ্রামের (অব.) সেনা সদস্য জহিরুল হক বিশ্বাসের ছেলে।
জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ফুলপুর পৌর শহরের বাসাবাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়াতেন আশিফ। মেধাবী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যাপক পরিচয় ছিল তাঁর। গতকাল সন্ধ্যার পর প্রাইভেট পড়ানো শেষ করে রিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন। হঠাৎ শেরপুরের দিকে রওনা হওয়া দ্রুতগামী একটি ট্রাক রিকশাটিকে ধাক্কা দিলে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন রিকশার যাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফাইজুল ইসলাম আশিফ ও রিকশাচালক আবুল হাশেম।
এ সময় পথচারীরা দুজনকে উদ্ধার করে ফুলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছাত্র ফাইজুল ইসলাম আশিফ রবিবার রাত ৯টায় মারা যান। চিকিৎসকরা জানান, গুরুতর আহত রিকশাচালক আবুল হাশেমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এ ব্যাপারে ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী জানান, এ ঘটনায় ট্রাকের চালক ঘাতক রফিক মিয়াকে ট্রাকসহ আটক করা হয়েছে। চালক রফিক মিয়া ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন মৃত সবুজ মোল্লার ছেলে। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা হওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাবা-মায়ের আহাজারি
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র আশিফের বাসা ফুলপুর পৌর এলাকায়। একটি ভাড়া বাসায় থাকত বাবা-মাসহ পুরো পরিবার। গত রবিবার রাত ১০টায় বাসার সামনে মিনি ট্রাকে আসে আশিফের লাশ। লাশ দেখতে ভিড় করছে হাজার হাজার লোক। লাশের পাশে বসে বিলাপ করছেন ৩৫-৪০ বছরের এক নারী শরিফা খাতুন। তিনি নিহত আশিফের মা। বারবার বলছেন, আমার বাবা বিকালে বাসা থেকে বের হয়ে রাতে লাশ হয়ে ফিরল।
মাইল্যার সড়কে কেড়ে নিল বাবার প্রাণ। আশিফ আশিফ বলে চিৎকার করে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরে এলে আবার বলছেন, আমার কইলজ্যার টুকরা বাবা চলে গেছে। আমি কী নিয়ে বাচঁবো গো, তোমরা আমার বাবাকে ফিরিয়ে দাও। কোনো সান্ত্বনায় থামানো যাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র আশিফের মায়ের কান্নার আওয়াজ।