ফখরুল-জরিনা বললেন, মিয়া ভাইয়ের লোকরা টানি লই আঙ্গ ভোট মারি দিছে

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর, ২০২১ ১১:৫০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চর মার্টিনে নৌকায় প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। ভোটারদের হাত থেকে ব্যালট পেপার কেঁড়ে নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নৌকা প্রার্থীর ইউছুফ আলীর লোকজন বিরুদ্ধে।
ওই ইউনিয়নের বিএনপি পন্থি স্বতন্ত্রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, এক দু’টি কেন্দ্র ছাড়া বাকী সব কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থীর লোকজন ভোটারের হাত থেকে ব্যালট কেঁড়ে নিয়ে নৌকায় তারা সিল মারে।
জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, আমার তিনটি কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতেই দেয়নি আওয়ামী লীগের লোকজন। দক্ষিণ চরমার্টিন হাজিপাড়া দারুল ইহসান নুরানী মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে সকালেই আমার এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে। ওই কেন্দ্রে তিনজন মেম্বার প্রার্থী ছিলেন। ব্যালট নিয়ে যাওয়া ও আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তারে তারা নির্বাচন বর্জন করেছে। এ সুযোগে আওয়ামী লীগে আমার এজেন্ট বের করে দিয়ে নৌকায় সীল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে নিয়েছে।
হাজিপাড়া নুরানী মাদরাসা কেন্দ্রের সামনে কথা হয় মধ্যবয়সি ভোটার ফখরুল ইসলাম ও জরিনা বেগমের সঙ্গে। পছন্দ মতো চেয়ারম্যান ভোট দিতে না পেরে তারা চরম ক্ষুদ্ধ। ফখরুল-জরিনা বলেন, মিয়া ভাইয়ের লোকরা টানি লই আঙ্গ ভোট মারি দিছে।

উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নে সুষ্ঠু হয়েছে। সব ওয়ার্ডের ভোটাররা নিবিঘ্নে ভোট দিতে পরেছেন বলে জানান।
এদিকে, চর লরেন্স ইউনিয়নে আগেই বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম নুরুল আমিন মাস্টার। তবে চর লরেন্স ইউনিয়নে মেম্বার ও মহিলা মেম্বার পদে শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, রামগতির চরগাজী ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। তবে ভোটে আগের দিন রাতে উপজেলার চরগাজীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী শেখ ফরিদ (ফুটবল) ভোট কেন্দ্র দখলে নিতে তার লোকজন নিয়ে হামলা-গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আজাদ উদ্দিন ও ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত জাফর আলীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থী আবদুর রব বেপারীর (মোরগ) ভগ্নিপতি ও আহত জাফর তার ভাগিনা। আহতরা চরগাজীর বয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, হামলা ও গুলির ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত অনুযায়ী ও অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে রামগতির চরগাজি ছাড়াও কমলনগরের চরকাদিরা, চরলরেন্স ও চরমার্টিন ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

কমলনগর উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. জায়েদুল হোসেন চৌধুরী বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শেষ হয়েছে। ভোটে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন