নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ে ইতিহাস
নিউ জিল্যান্ড : ৩২৮ ও ১৬৯ (৭৩.৪ ওভারে)
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৪৫৮ ও ৪২/২ (১৬.৫ ওভারে)
ফল : বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : এবাদত (বাংলাদেশ)
নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন ফরমেট মিলে ৩২ কোনো ম্যাচে বাংলাদেশের ছিল না জয়। ২০০১ থেকে ২০১৯-এই দেড় যুগে বাংলাদেশ ৯ টেস্টের সব কটিতে হেরেছে। যার মধ্যে ৫টিতে ছিল ইনিংস হার।
নিউ জিল্যান্ডের সবুজ উইকেটের জুজু কেটেছে অবশেষে। এবাদতের বিস্ময় বোলিংয়ে (৬/৪৬) আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নিউ জিল্যান্ডকে তাদের মাটিতে ৮ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ।
জেমিসনকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে মুশফিকুর রহিমের বাউন্ডারি শটে ইংরেজী নববর্ষ বরণের পাশাপাশি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রের সূচনা করেছে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ।
জয়ের আবহটা পেয়েছে বাংলাদেশ চতুর্থ দিনে। ১৩০ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিন শেষে নিউ জিল্যান্ডের ৫ উইকেট ফেলে দিয়ে জয়ের সুবাস পেয়েছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল একটাই, যতো দ্রুত সম্ভব অবশিষ্ট ৫ উইকেট দ্রুত ফেলে দেয়া। সে লক্ষ্যটা পূরণ হয়েছে। মাত্র ৬৪ বলে স্বাগতিকদের শেষ ৫ উইকেট ফেলে দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। নিউ জিল্যান্ড যোগ করতে পেরেছে মাত্র ২২ রান। ১৬৯ রানে অল আউট হয়েছে তারা।
বুধবার সকালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের সূর্যটা হেসেছে শুরুতেই। ৪র্থ দিনের শেষ বিকেলে ভয়ংকর একটা স্পেলে (৭-২-১৫-৩) বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় এনে দেয়া ম্যাচের নায়ক এবাদত ৫ম দিনেও হিরো। ৫ম দিনে তার ৫ ওভারের স্পেলে (৫-২-৭-২) নিউ জিল্যান্ডের দর্প চূর্ণ করেছেন এবাদত।
দিনের ৮ম বলে গুডলেন্থ ইনসাইড অফ-এ রস টেলরকে (১০৪ বলে ৪০) ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বোল্ড আউটে উৎসবের শুরু বাংলাদেশের। দিনের চতুর্থ ওভারে এবাদতের পরের শিকার জেমিসন মিড উইকেটে দিয়ে এসেছেন ক্যাচ (০)।
রস টেলরকে শিকারে ২০১৩ সালের পর বাংলাদেশের প্রথম কোনো পেস বোলার হিসেবে ইনিংসে ৫ উইকেটের রেকর্ডটা করেছেন এবাদত। জেমিসনকে ফিরিয়ে দিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পেস বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিং ইনিংসের রেকর্ডটাও (২১-৬-৪৬-৬) করেছেন এবাদত। ২০১৩ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রবিউলের ১৯-১-৭১-৬ এর সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটা ভেঙ্গেছেন এবাদত ৮ বছর পর।
দিনের শুরুটা করেছেন এবাদত। বাকি দায়িত্বটা পালন করেছেন তাসকিন ৫ ওভারের একটি স্পেলে (৫-২-১৪-২) রাচিন রবীন্দ্র (১৬) ও সাউদিকে (০) ফিরিয়ে দিয়ে। ৪র্থ দিনে ২ বার উইকেট থেকে বঞ্চিত হওয়া মিরাজের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত উইকেট জুটেছে। ৪ বলের স্পেলে (০.৪-০-০-১) বোল্টকে (৮) ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন এই অফ স্পিনার।
জয়ের জন্য ৪র্থ ইনিংসে ৪০ রানের টার্গেটটা কঠিন হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সাদমান সাউদির লেন্থ বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন (৩), মাহমুদুল হাসান জয় এর ইনজুরিতে ওপেনিংয়ে নেমে ৩১ রানের পার্টনারশিপে অবদান রাখা নাজমুল হোসেন শান্ত ইনিংসের ১৫ তম ওভারে জেমিসনের বলে স্লিপে দিয়েছেন ক্যাচ (১৭)। এর পর আর ফাঁদে পা দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাটাররা। দুই অভিজ্ঞ মুমিনুল (৪৪ বলে ১৩*), মুশফিক (৭ বলে ৫*) দলকে পৌছে দিয়েছেন জয়ের বন্দরে।