দগ্ধ তরুণীর মৃত্যু : লক্ষ্মীপুরে ইউপি সদস্যসহ ৪ আসামি কারাগারে

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইতে এসে আগুনে দগ্ধ হয়ে চট্টগ্রামের তরুণী শাহীনুর আক্তারের (২৪) মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২২ এপ্রিল) রাত ১১ টার দিকে তরুণীর দাবি করা স্বামী সালাউদ্দিনকে প্রধান আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে এ মামলা দায়ের করা হয়। নিহতের বাবা জাফর উদ্দিন বাদী হয়ে করা

ওই মামলায় ইউপি সদস্যসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে ৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৮ জন রয়েছে। তরুণী দগ্ধের ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশসহ ৪ জনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রধান আসামি সালাউদ্দিন পলাতক রয়েছে।


লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক শহীদ উল্যা বলেন, শাহীনুরের মৃত্যুর মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তারিক আজিজের আদালতে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কমকর্তা ওই আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার (২৪ এপ্রিল) ধার্য করেন। আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।


থানা পুলিশ জানায়, শাহীনুরের বাবা জাফর উদ্দিন, মামা কামাল উদ্দিন ও ফুফু নুরবানু পুলিশের সহযোগিতায় সোমবার রাতে আইয়ুবনগর এলাকার সয়াবিন ক্ষেত থেকে পরিদর্শন করেন। সেখানে শাহীনুর অগ্নিদগ্ধ হয়। নিহত শাহীনুর চট্রগ্রামের গামেন্টসকর্মী ও প্রধান আসামি সালাউদ্দিন পেশায় রিকশা চালক।


মামলায় গ্রেপ্তাররা হলেন চরফলকন ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) হাফিজ উল্যা, গ্রাম পুলিশ আবু তাহের, সালাউদ্দিনের ভাই আবদুর রহমান ও আলাউদ্দিন। এরআগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার রাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত তাদের আটক করে পুলিশ। পরে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার তরুণী শাহীনুর আক্তার শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের সালাউদ্দিনের কাছে স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইতে আসেন। রবিবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে কমলনগর উপজেলার আইয়ুবনগর এলাকার একটি সয়াবিন ক্ষেত থেকে তার শরীরে আগুন নিয়ে দৌঁড়ে বের হতে দেখে স্থানীয়রা।

আগুন নিভিয়ে দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে ইউপি সদস্য হাফিজ উল্যা ও গ্রাম পুলিশ আবু তাহের। ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের কাছে শাহীনুর বলেছেন, সালাউদ্দিন তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দেয়নি। এটি সহ্য করতে না পেরে রাগ-ক্ষোভে এমনটি করেছেন। পরে আবার শাহীনুর সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, সালাউদ্দিন কেরোসিন দিয়ে তার শরীরের আগুন দিয়েছে। সোমবার (২২ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


নিহতের বাবা জাফর উদ্দিন সাংবাদিকদের জানায়, চট্রগ্রামের রাউজান থানার নোয়াজেশপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে শাহীনুরের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান।


জানতে চাইলে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, দগ্ধ তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ৪ আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সালাউদ্দিন পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলাটি তদন্ত চলছে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন