গরিবের চাল নিয়ে রামগতিতে চেয়ারম্যানের চালবাজি
নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ডিলার নাজিম উদ্দিন চাল বিতরণকালে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং ওজনে কম দিয়ে এ অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। করোনা সঙ্কটেও ডিলারের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন সুুবিধাভোগী হতদরিদ্ররা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সরকার হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি বছরে পাঁচ মাস (মার্চ-এপ্রিল, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ও নভেম্বর) ৩০ কেজি করে চাল দিচ্ছেন। কর্মসূচিটির আওতায় উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের তিন হাজার ৩৮১টি কার্ডধারী হতদরিদ্রের বিপরীতে সাতজন ডিলার রয়েছেন। এর মধ্যে ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার ৪২৮ জন কার্ডধারীর মাঝে খাদ্য বিভাগের নিয়োগকৃত ডিলার আজিম উদ্দিন চাল বিতরণ করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে এ চাল বিতরণের সময় ডিলার সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৩২০ টাকা করে নিয়ে আসছেন। সোমবার থেকে চলতি এপ্রিল মাসের চাল বিতরণ শুরু হলে এবারও অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। সুবিধাভোগী হতদরিদ্ররা করোনা সঙ্কটের কারণে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বাড়তি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু ডিলার আজিম বাড়তি ২০ টাকা ছাড়া চাল না দেওয়ায় হতদরিদ্ররা ওই টাকা দিয়েই চাল নিতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধু তাই নয়; অতিরিক্ত টাকা দিয়েও ৩০ কেজির পরিবর্তে কেউ কেউ চাল পাচ্ছেন ২৫ থেকে ২৮ কেজি করে।
নুরনাহার বেগম, মাকসুদ কাজী, মো. ইব্রাহীম ও বিবি ছকিনাসহ কয়েকজন হতদরিদ্র জানান, চাল দেওয়ার সময় ডিলার আজিম তাদের কাছ থেকে ৩২০ টাকা করে নিয়েছেন। এ সময় তারা প্রতিবাদ করলেও কোনো লাভ হয়নি। ডিলার চাল না দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছন বলে তারা জানান।
হতদরিদ্র মোশারেফ হোসেন ও বিবি কুলছুম জানান, ডিলারের গুদাম থেকে চাল নিয়ে ফেরার পথে ওজনে কম হওয়ার ব্যাপারে তাদের সন্দেহ হয়। এ সময় স্থানীয় মুন্সীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের সামনে চাল ওজন দেওয়া হলে ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৫ কেজি পাওয়া যায়। এ সময় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিলারের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে অভিযুক্ত ডিলার আজিম উদ্দিন জানান, আগে তিনি অতিরিক্ত টাকা নিলেও এখন আর নিচ্ছেন না। তিনি বলেন, খাদ্যগুদাম থেকে আমার গুদামে চালের বস্তা লোড-আনলোড করার সময় কিছু বস্তা ফুটো হয়ে চাল বের হয়ে যায়। এতে কেউ কেউ চাল কম পেতে পারেন।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণের জন্য তিনি ডিলারকে সতর্ক করে দিয়েছেন। এরপরও ডিলার কোনো অনিয়ম করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।