গণপিটুনিতে রেনুর মৃত্যু : তুবা বলে মা আসবেই

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০১৯ ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘মা আমার জন্য ড্রেস আনতে গিয়েছে। জুসও আনবে। আমি কারো হাতে ভাত খাবো না। মা আসবেই। মা এসে আমাকে খাইয়ে দেবে। আমি মায়ের সাথে ঘুমাবো’। খালা নাজমুন নাহার নাজমাসহ স্বজনদের কাছে এসব বায়না করছে ছোট্ট শিশু তাসলিমা তুবা।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে জানতে চাইলে তুবার বিষয়ে নাজমা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এসব কথা জানান। রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামে নানার বাড়িতে নানু ও খালাদের সঙ্গে আছে তুবা।

নাজমা অভিযোগ করে বলেন, ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে আমার বোন তাসলিাম বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরসঙ্গে ফুটফুটে দুটি শিশুর জীবনও তারা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি গুজবে বিশ^াস করিনা। আপনারাও গুজবে বিশ^াস করবেন না। আমার বোনের মত অন্য কাউকে যেন এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়। 

তুবার বিষয়ে নাজমা বলেন, তুবাকে আমার কাছে রাখার একান্ত ইচ্ছা। ঢাকার মহাখালীতে সে আমাদের কাছেই থাকবে। তাকে মানুষের মত মানুষ গড়ে তুলতে হবে। গুজবের অন্ধকার জগত যেন তাকে দেখতে না সেভাবে গড়ে তোলা হবে। যাতে তার মায়ের মত অন্য কারো জীবন না দিতে হয়।

তুবার ভাই তাসফিক আল মাহির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বোনের ডিভোর্সের পর থেকে মাহি তার বাবার কাছে থাকে। তবে আমরা চাচ্ছি- দুইজনকেই আমাদের কাছে রাখতে। এখনো আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। ঢাকায় গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। দুইজনকেই আমাদের কাছে রাখার চেষ্টা করবো।

নিহত রেনুর বিষয়ে জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কন্ঠে নাজমা বলেন, ডিভোর্সের পর থেকে ছেলেটি তার বাবার কাছে থাকতো। কিন্তু মাহিকে মায়ের অভাব কখনো বুঝতে দেয়নি রেনু। প্রায়ই বিদ্যালয় গিয়ে তার সাথে দেখা করতো। অনেক সময় বিদ্যালয় ছুটি হওয়া পর্যন্ত ছেলের জন্য অপেক্ষা করতো।

পরীক্ষার সময় খুব সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে মাহির জন্য নাস্তা বানিয়ে নিয়ে যেত বিদ্যালয়ে। তাকে খাওয়ানোর পর ক্লাসে ঢুকিয়ে তারপর রেনু বাসায় ফিরতো। মাহি ও তুবাকে একসঙ্গে পড়ানোর লক্ষ্যেই শনিবার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গিয়েছিল রেনু। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন গুজবে ধ্বংস হয়ে গেল। 

প্রসঙ্গত, শনিবার (২০ জুলাই) সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে (৪০) প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে গুজবের কবলে পড়ে গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়।

পরেরদিন রোববার (২১ জুলাই) রাতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানের বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বোনের ছেলে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন