কুড়িগ্রামের ডিসি প্রত্যাহার, হবে বিভাগীয় মামলা

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২০ ৪:৫২ অপরাহ্ণ

গভীর রাতে বাসায় গিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে আটকের পর ডিসি অফিসে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে কারাদণ্ড দেয়ার ঘটনায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। সেই সাথে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৫ মার্চ, রবিবার সচিবালয়ে এ কথা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে কুড়িগ্রামের জেল প্রশাসকের বিষয়ে বেশ অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।। জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। চূড়ান্ত প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিস্তারিত পর্যালোচনা ও তদন্ত করে বিভাগীয় মামলা হবে। ডিসির কার্যকলাপে সরকারে ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ায় শিগগিরই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে তদন্ত কমিটির লিখিত রিপোর্ট ও সুপারিশ পেলে মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা। যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজা দিয়েছে তাকেও জবাব দিহিতার আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে জামিন দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের কারণে তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে ধরে নিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট। এ সময় তার বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়, যদিও আরিফ ধূমপান করেন না। আরিফের স্ত্রী জানান, মধ্যরাতে কিছু আগন্তুক তাদের বাসায় এসে দরজা ধাক্কাতে থাকেন ও দরজা খুলতে বলেন। আরিফ তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় দেননি। এরপর আরিফ কুড়িগ্রাম থানায় যোগাযোগ করলে থানা কর্তৃপক্ষ তার বাসায় কোনও অভিযান চালানো হয়নি বলে নিশ্চিত করেন। এরমধ্যেই আগন্তুকরা দরজা ভেঙে তার বাসায় প্রবেশ করে। তবে তারা কোনও তল্লাশি অভিযান চালায়নি। তারা বাসায় ঢুকেই কোনো কারণ না জানিয়ে আরিফকে মারতে মারতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় কয়েকবার গুলি করার হুমকিও দেয় আগন্তুকরা। এর এক ঘণ্টা পর থানা পুলিশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাকে খুঁজে পায়।

প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে নামকরণ করতে চেয়েছিলেন। আরিফুল এ বিষয়ে নিউজ করার পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। এছাড়া, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে ডিসি সুলতানা পারভীনের অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন তৈরি করেন তিনি। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন