‘করোনায়ও থেমে নেই তামাকজাত পণ্যের প্রচারণা’

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২১ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

করোনাকালে তামাকজাত পণ্যের কোম্পানিগুলো আইন অমান্য করে আগ্রাসী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে আইন ভঙ্গকারী তামাক কোম্পানিগুলোকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা।।

বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের (বাটা) আয়োজনে সম্প্রতি ‘করোনাকালীন সময়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের চিত্র এবং বাস্তবায়নের গুরুত্ব’ শীর্ষক অনলাইন সভায় আলোচকরা এ দাবি জানান। এ আলোচনায় অংশ নেন প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠন, ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের নির্বাহী প্রধান আরিফুর রহমান, প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল হেলাল আহমেদ, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসের খান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সহ-সভাপতি ছটকু আহমেদ, দ্য ইউনিয়নের কারিগরি উপদেষ্টা সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা আবু রায়হান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান।

স্বাগত বক্তব্যে প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি হেলাল আহমেদ বলেন, কোভিড মহামারির এই সময়ে সারা বিশ্ব যেখানে স্থবির, সেখানে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তামাক কোম্পানির ব্যবসা জমজমাট। ওদের ব্যবসায় কোনো ঘাটতি হয়নি। আমরা শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছি। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, তামাক পণ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন একটি পণ্য, এটি বর্জন করা হলে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে আন্তরিক। শিগগিরই দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হবে। সংশোধিত আইনে তামাক কোম্পানিগুলোকে আইন ভঙ্গে কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সকলকে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে।

আবু নাসের খান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ভঙ্গ করে প্রচারণার জন্য কোম্পানিকে উচ্চহারে জরিমানা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যুগোপযোগী করতে হবে।

ছটকু আহমেদ বলেন, ধূমপান শুধু করোনা সময়ের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটি সবসময়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মুখ দিয়ে ধূমপান করার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হলে অনেক লোকই উৎসাহিত হবে এবং বিষয়টি আরও সক্রিয় হবে। চলচ্চিত্রে সাবটাইটেল দিয়ে ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অবশ্যই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মানা প্রয়োজন।

আরিফুর রহমান বলেন, করোনার মহামারির সময়ে মাঠ পর্যায়ে তামাক কোম্পনির প্রচারণা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। তামাক কোম্পানিগুলো আইন ভঙ্গ করে অভিনব কায়দায় নতুন ধূমপায়ী তৈরি করছে। কোম্পানিগুলোর এ প্রচারণা বন্ধে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।

সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো আইন ভঙ্গ করে বিজ্ঞাপন প্রচারণা করছে। কিন্তু সেই তুলনায় কোম্পানিগুলোকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। কোম্পানিগুলোকে কঠোর শাস্তির বিধান করা উচিত।

মূল প্রবন্ধে আবু রায়হান বলেন, বাংলাদেশের প্রাপ্ত বয়ষ্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫.৩% তামাকসেবী। যাদের মধ্যে পুরুষ ৪৬% এবং নারী ২৫.২%। তামাকজনিত কারণে আমাদের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩০,৫৭০ কোটি টাকা। লকডাউনের সুযোগ নিয়ে তামাক কোম্পানি প্রচারণা চালাচ্ছে এবং আইন লঙ্ঘনের কাজ চলছে। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণদের কাছ থেকে তামাক কোম্পানিগুলো তথ্য সংগ্রহ করছে। কোভিডের সময়ে মাস্ক, পিপিই প্রদান করে প্রচারণা চালাছে।

 

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন