‘করোনার এক বছরে নতুন দরিদ্র আড়াই কোটি মানুষ’

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২১ ২:৩৪ অপরাহ্ণ

করোনা পরিস্থিতিতে কেউ হারিয়েছেন কাজ। কারও বন্ধ হয়েছে ব্যবসা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাবে, এমন পরিস্থিতিতে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে এসেছেন দেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ। তাই আসছে বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বরাদ্দ আগের চেয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।

বাসাবাড়ির কাজ করেই চলতো নাসিমা বেগমের সংসার। হঠাৎ চোখের অসুখে হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি। এ অবস্থায় বিধবা মেয়ের উপার্জন দিয়েই চলছে তার সংসার।

নাসিমার মতো রাজধানীর মগবাজার ওয়ারলেস রেললাইনের পাশের বস্তিতে শতাধিক কর্মহীন মানুষের বাস। সরকারের কোনো ভাতা পাচ্ছেন না বলে দাবি এদের অনেকের।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর সমীক্ষা বলছে, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৩২টি কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সহায়তা পাচ্ছেন ৮৮ লাখ দরিদ্র মানুষ। তার পরও সুবিধাবঞ্চিতদের ৪৬ শতাংশ এখনো থেকে যাচ্ছেন এর বাইরে।

সিপিডি জানিয়েছে, চাকরি হারানোদের মধ্যে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ শহরাঞ্চলে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মে নিয়োজিত ছিলেন। ২০২১ সাল শেষ হতে এখনও ছয় মাস বাকি। এ সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ কর্মহীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে, করোনার প্রথম ঢেউয়ে ২০২০ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাসে চার লাখ অভিবাসী শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

অন্যদিকে নারী উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রয়েছেন। এশিয়া ফাউন্ডেশনের তথ্য অনযায়ী, ৫০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, দেশে দারিদ্র্য ক্রমশ বাড়ছে। যেখানে শ্রমনির্ভর দারিদ্র্য বেশি। এ হার ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩ শতাংশ হয়েছে। অতিমারির প্রভাবে এ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ।

করোনায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ায়, আসছে বাজেটে এই খাতের বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ২৪ শতাংশ বেশি। সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো যায় তা নিশ্চিত করার তাগিদ বিশ্লেষকদের।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন