এক বাকী বিল্লাহ দুই রাজনৈতিক দলের নেতা!

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ৭:৪১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরে রায়পুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী জামশেদ কবির বাকী বিল্লাহ জাকের পার্টির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী পদে থেকে নিয়মিত অন্য দলের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি। এক নেতা কিভাবে দুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত এ প্রশ্নে জেষ্ঠ্য রাজনৈতিক ব্যক্তি ও নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা হয়ে বাকী বিল্লাহ জেলা জাকেরপার্টির সভাপতির দায়িত্ব ছিলেন। অপকীর্তি ও দুস্কৃতির কারণে তাকে জাকেরপার্টি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দু’জন সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি জাকের পার্টির কর্মী গ্রুপ নাম দিয়ে প্রতিরাতেই নিজ কার্যালয়ে ভক্তদের নিয়ে তিনি আসর বসান। তিনি এর নাম দেন জলসাঘর। ভক্তরা এ আসরে তাকে নগদ টাকা, গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন নজরানা দেয়। এছাড়া তার নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের দাপট দেখিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

এদিকে বাকী বিল্লাহর বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ী পরিবারকে হত্যাসহ বিভিন্ন হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ আতঙ্কে ব্যবসায়ী পরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রায়পুর স্টেশন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগী পরিবার এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী সাইফুদ্দিন নয়ন, তার ভাই দলিল লেখক কামাল উদ্দিন বাহার, পরিবারের সদস্য খালেদা আক্তার, নাজমুন নাহার, শাজেদা আক্তার ও সাহেদা আক্তার। এসময় এলাকাবাসীও উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা জীবনের নিরাপত্তায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তারা জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা বাকী বিল্লাহ আটরশির মুরিদ। তিনি রায়পুর পৌর শহরে নয়নদের জমিতে আটরশির ওরসের জন্য গরুর প্যান্ডেল করতে চেয়েছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় বাকী বিল্লাহ প্রকাশ্যেই তাকে মারধর করে। ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড সিএনজি স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় নয়ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এদিকে তাকে বাকী বিল্লাহর মারধরের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এনিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন হয়। কিন্তু বাকী বিল্লাহর বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় এজাহার দেওয়া হলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ তা মামলা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেননি।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাকী বিল্লাহ নিজেই নয়নকে মারধর করে। একপর্যায়ে অনুসারীদের নিয়ে তাকে মারতে মারতে ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। ঘরে ভেতর ভাঙচুর শেষে তারা বের হয়ে যায়। যাওয়ার সময় নয়নের ভাই কামাল উদ্দিন বাহারকেও হুমকি দেওয়া হয়।

কামাল উদ্দিন বাহার বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে বাকী বিল্লাহ আটরশির ওরসের জন্য গরুর প্যান্ডেল তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এতে সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে তাকে জানালে তিনি প্রকাশ্যে আমার ভাইকে মারধর ও ঘরের ভেতর ভাঙচুর করে। আমি উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার অফিসের দলিল লেখক। সেখানে থেকে লাথি মেরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

জাকের পার্টির জেলা সভাপতি আজাদ হোসেন বাঙ্গালী বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে জেলা সভাপতির পদ থেকে বাকী বিল্লাহকে বহিস্কার করা হয়েছে। কর্মী গ্রুপ নাম দিয়ে তিনি আসর বসিয়ে ভক্তদের কাছ থেকে নজরানা নেয়। কিন্তু জাকের পার্টির মধ্যে কোন কর্মী গ্রুপ নেই। তার বিরুদ্ধে মহাসম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। ভক্তদের কাছ থেকে নজরানা নিয়ে তা আটরশির ওরসে জমা দেন কিনা তা আমার জানা নেই।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক তিনজন আওয়ামী লীগ নেতা জানায়, বাকি বিল্লাহ দীর্ঘ কয়েক বছর রায়পুর পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক ছিলেন। দেড় মাস আগে সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। এরমধ্যেই তিনি কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ জুটনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের পদে থেকে বাকী বিল্লাহ জাকের পার্টির বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সক্রিয় রয়েছেন। নিজের জলসা ঘরে ভক্তদের নিয়ে নিয়মিত আসর বসিয়েছেন। নিচ্ছেন নজরানাও। আওয়ামী লীগে থেকে কিভাবে তিনি জাকেরপার্টি কার্যক্রমে স্বক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তা রহস্যজনক।

আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জামশেদ কবির বাকী বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয়। আগে সংবাদ সম্মেলন করে আমরা সত্য ঘটনা তুলে ধরেছি।

রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল আলী পাটওয়ারী বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিস্তারিত জানা নেই। তবে অভিযোগটি উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসিমুল হক ইমরান তদন্ত করছেন। তিনিই বিস্তারিত বলতে পারবেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া ও এসআই নাসিমুল হক ইমরান নোয়াখালীতে পুলিশের একটি সভায় থাকায় কল দিয়েও তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন