উঠানে সাপ রেখে স্বর্ণালংকার-টাকা নিয়ে উধাও সাপুড়েরা
বাড়ির উঠানে সাপের খেলা দেখাচ্ছিল দুই সাপুড়ে। এক পর্যায়ে কৌশলে বাড়ির নারীদের কাছ থেকে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাপ রেখেই তারা চম্পট দেয়। সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বিরইনতলা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ব্যাপারে জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, কাঠের বাক্সে ভরা একটি সাপ নিয়ে দুইজন সাপুড়ে বিরইনতলা গ্রামের বাসিন্দা উস্তার আলীর বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ ছিল না। এক পর্যায়ে সাপুড়েরা বাড়ির উঠানে সাপের খেলা দেখানো শুরু করে। তা দেখতে জড়ো হন বাড়ির নারী ও শিশুরা। খেলা দেখানো শেষে সাপুড়েরা বলে- নারীদের ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ভেজানো পানি দিয়ে সাপকে গোসল করাতে হবে। এছাড়া পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। কাজ সম্পন্ন হলে স্বর্ণালংকার-টাকা ফিরিয়ে দেয়া হবে। এটা করলে পরিবারের মঙ্গল হবে, অন্যথায় ক্ষতি হবে।
বাড়ির নারীরা তাদের বিশ্বাস করে ৭-৮জন মিলে ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। এক সাপুড়ে তা প্যান্টের পকেটে নিয়ে বলে- ‘ওস্তাদ’ এলেই কাজ শুরু হবে। পরে সাপের বাক্স রেখে ‘ওস্তাদকে’ এগিয়ে আনার কথা বলে বাইরে বেরিয়ে তারা আর ফেরেনি। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলে তাদের পরামর্শে বিকেলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন বাড়ির কর্তা উস্তার আলী।
ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মাহবুব আলম বলেন, সাপুড়েরা প্রতারণা করে অন্তত ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছে। খেলা দেখানোর সময় প্রতারণার শিকার পরিবারের এক শিশু মোবাইলে এক সাপুড়ের ছবি তুলে রেখেছে। ছবিটি পুলিশকে দেয়া হয়েছে। বাক্সবন্দী সাপ উস্তার আলীর বাড়িতে রয়েছে।
জুড়ী থানার এএসআই লিপি বেগম বলেন, এ কাজে জড়িতরা প্রতারক চক্রের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।