আধিপত্য: রায়পুরে আ.লীগের দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আটক ৩
নিজস্ব প্রতিবেদক: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্য দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের মিয়ারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা একটি বিদ্যালয়, কয়েকটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এনিয়ে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি দাদন মোল্লা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল রাহুলের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাঁধে। আটকরা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা দাদন মোল্লা, আওয়ামী লীগ কর্মী মান্নান ও সোহেল। এ রিপোর্ট লেখার সময় আটকরা রায়পুর থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
আহতরা হলেন দাদন মোল্লা, শাহ জালাল রাহুল, মো. ইউসুফ, মো. মনির, জলিল মিয়া ও রুহুল আমীনসহ অন্তত ১০ জন। তারা আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী।
এরমধ্যে ৫ জনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল ও রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক। তাকে নোয়াখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অধিপত্য বিস্তার নিয়ে দাদন মোল্লা ও শাহ জালাল রাহুলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এনিয়ে আগেও কয়েকবার মারামারি ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মিয়ারহাটে রাহুল দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় দাদন মোল্লা সেখানে যায়। পরে দাদন মোল্লা ও রাহুল বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় দক্ষিণ চরকাচিয়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কিছু দরজা-জানালা, একটি ক্লাব ঘর ও কয়েকটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষের ঘটনার জন্য শাহ জালাল রাহুল ও পুলিশ হেফাজতে থাকা দাদন মোল্লা পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ করেছেন।
দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ মো. মিন্টু ফরায়েজী জানান, দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা তিনি শুনেছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কেউ তা মানছে না।
এ ব্যাপারে রায়পুরের হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, দুপক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় দু’পক্ষের তিনজনকে আটক করা হয়। আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।