আতঙ্কের নাম চট্টগ্রাম কলেজ

প্রতিবেদক : এমএন
প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০১৮ ১১:১১ অপরাহ্ণ

ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজের সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। সুশিক্ষার সুনাম হারিয়ে এখন আতঙ্কের নাম চট্টগ্রাম কলেজ। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের আতঙ্কে থাকতে হয় ক্যাম্পাসে। অভিভাবকরাও থাকেন উদ্বিগ্ন। সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া গোলাগুলি নিত্যদিনের সূচিতে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগের দু’পক্ষের হামলা চলছে প্রায় ১৫ দিন ধরে। এখন চট্টগ্রাম কলেজ নাম নিলে আতঙ্কে শিউরে উঠেন অনেকেই।

জানা গেছে, একসময় চট্টগ্রাম কলেজ সারাদেশব্যাপী মানুষের মুখে সুনাম ও সুখ্যাতি ছিল। শিক্ষার্থীরা চাইতেন চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করতে, অভিভাবকরাও চাইতেন সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এ কলেজে পড়াতে। কিন্তু এখন সে খ্যাতি নেই। ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম কলেজের সব খ্যাতি ধূলায় মিশিয়ে দিয়েছে ছাত্রলীগের গ্রুপিং। এ গ্রুপিং এমন আকার ধারণ করেছে যে, প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতেও দ্বিধাবোধ করে না ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত।

সূত্রমতে, ছাত্র শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম সরকারী কলেজটি ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর শাসক দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণে নেয়। সেই থেকে প্রায় প্রতি মাসেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষ লেগেই থাকে। গুলি আর ককটেল ও ইট-পাটকেলের আতঙ্ক নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা। ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় কোনোমতে ক্লাস করে ক্যাম্পাস ত্যাগ আশপাশে গিয়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

আবার ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে অনেক অভিভাবক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে পাঠান না। কারণ কখন কি ঘটে যায় সেই আতঙ্কের চেয়ে লেখাপড়া না করাই ভালো।

এমন পরিস্থিতিতে মাস্টার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী সামেয়া আক্তারের মা নাহারু বেগম বলেন, কখন কি ঘটে যায়, তাই মেয়ের সঙ্গে আমি ক্যাম্পাসে আসি। এখানে সবসময় গোলাগুলি হয় শুনি, তাই মেয়েকে একা আসতে দিতে ভয় করে।

অনার্সের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে আলী বলেন, ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছে- যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে না পারে। হাতে গোনা কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আমাদের জিম্মি করে রেখেছে। আমরা এ জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চাই। আমরা লেখাপড়া করার পরিবেশ চাই।

ছাত্রলীগ কলেজ শাখার ঘোষিত কমিটির সভাপতি মাহমুদ জানান, কিছু বহিরাগত অছাত্র কলেজের বাইরে অবস্থান করে কলেজের আশপাশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে। তারপরও তারা ছাত্রলীগের নামে এভাবে শৃঙ্খলা বহির্ভূত কাজ করলে তাদের বিষয়ে সংগঠনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

চট্টগ্রামের সহকারী জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটিসি) আমিরুল কায়ছার বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ভালো ফলাফলের জন্য অবশ্যই শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত পরিবেশ দরকার। চট্টগ্রামে কলেজের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার চরম ক্ষতি হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার নাথ বলেন, চট্টগ্রাম কলেজের চলমান পরিস্থিতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অবশ্যই ক্ষতি হচ্ছে। তবে যা কিছু ঘটছে সবই ক্যাম্পাসের বাইরে। সবাই তো আমাদের ছাত্র। যারা বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা করছে আমি তাদের অনুরোধ করব, তারা যেন এসব ছেড়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করে। (বার্তা২৪.কম)

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন