আগুনে পুড়ে গেছে নারী উদ্যোক্তার স্বপ্ন

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

কয়েক মিনিটের মধ্যেই চোখের সামনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল। তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্নও সেই সঙ্গে পুড়ে গেল। ‘আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম’—আহাজারি করছিলেন নারী উদ্যোক্তা ইলমে লাইলাতুল ওরফে লাজুক।

ইলমে লাইলাতুল কুষ্টিয়ার কুমারখালী শহরের তেবাড়িয়ার বাসিন্দা। পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে বাড়ির তিনটি ঘরে ইলমে গড়ে তুলেছিলেন ছোট্ট একটা কারখানা। সেখানে তিনটি সেলাই মেশিনে তৈরি হতো কাপড়ের বিভিন্ন পণ্য। চুলার আগুন থেকে সেই কারখানা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কোনো কিছুতেই সান্ত্বনা খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুঃস্বপ্নের মতো তা তাড়া করছে তাঁকে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আজ সকালে ইলমের বাড়িতে আসেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুজ্জামান। তিনি পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নগদ ছয় হাজার টাকা, দুই বান্ডিল ঢেউটিন, চাল-ডাল, আটা, লবণ-চিনি, মোমবাতি দেন।

আজ ঘটনাস্থলে কথা হয় ইলমে লাইলাতুলের সঙ্গে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবার দুপুরে চুলার আগুন থেকে তাঁর কারখানায় আগুন লাগে।

স্থানীয় লোকজন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, নারী উদ্যোক্তা ইলমের পরিবারে শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী, সন্তান ও দেবর আছেন। গতকাল জুমার নামাজে যান শ্বশুর, স্বামী ও দেবর। এ সময় বসতঘরের পাশের একটি একচালার ঘরে তাঁর শাশুড়ি নাসিমা খাতুন গ্যাসের চুলায় রান্না করছিলেন।

আর ঘরে মেশিনে কুশন কাভার তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন ইলমে। এর মধ্যে প্রথমে গ্যাসের চুলা থেকে আগুন গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপে এবং পরে রান্নাঘরের চালায় লাগে। সে সময় শাশুড়ির ডাকে বাইরে গিয়ে আগুন জ্বলতে দেখেই চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকতে থাকেন। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কুমারখালীর দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা (হাবিলদার) দেলোয়ার হোসেন বলেন, গতকাল দুপুরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার রমেশ কুমার সাহার নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। কর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে পরিবারটির।

আগুনে পুড়ে গেছে নারী উদ্যোক্তার পণ্য। কুষ্টিয়া, কুমারখালী, ১৭ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলোইলমে লাইলাতুল বলেন, ঘরের ভেতর তিনটা সেলাই মেশিন ছিল। বেসিন টাওয়েল, শো-পিস, কুশন কাভার, মশারি কাভার তৈরি হতো সেসব মেশিনে। ঘরে ছিল ৭০ হাজার টাকার উপকরণ। দেবর আল আমিন এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তার প্রবেশপত্র ও বই খাতাও পুড়ে গেছে। পণ্য তৈরির জন্য তিনটি বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর পণ্য উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় ১০টি জেলায় বিক্রি হতো। প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় হতো। পুরো পরিবার এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

ইলমের স্বামী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগুনে পরিবারের আয়ের উৎসই ধ্বংস হয়ে গেছে। মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করলেও এখন তাদের প্রায় চার-পাঁচ লাখ টাকা পুঁজি। প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। আগুন লেগে সব শেষ হয়ে গেছে তাঁদের। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

মামুনের ছোট ভাই আল আমিন বলে, আগুনে পুড়ে গেছে তার বইখাতা ও পরীক্ষার প্রবেশপত্র।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন