অস্ত্র হাতে একাই তালেবানদের রুখে দিল আফগান কিশোরী

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২০ ৩:২৫ অপরাহ্ণ

এক আফগান কন্যার কাছে বাস্তব বা সিনেমার অনেক গল্পই হার মানবে। বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালানো দুই সশস্ত্র তালেবান জঙ্গিকে একা একটা কিশোরী মেয়ে পরপারে পাঠিয়ে দেয়। আরো কয়েকজনকে গুলিতে ধরাশায়ী করে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর চরম প্রতিশোধ নিলো মেয়েটি। বলিউডি ছবির কোনো চিত্রনাট্যকারও বোধহয় এতটা বাড়াবাড়ি করবেন না!

ক্ষোভ চেপে গেলে কেউ কতটা বেপরোয়া, নির্ভীক হয়ে উঠতে পারে, তা দেখিয়ে দিয়েছে ওই আফগান কিশোরী। আসলে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে নতুন করে হারানোর কিছু না থাকলে, জীবন থেকে ভয়ডর সব হারিয়ে যায়।

আফগান কন্যার এই সাহস পাকিস্তানি কন্যা মালালা ইউসুফজাইকে মনে করিয়ে দেয়। সোয়াট উপত্যকার মেয়ে মালালা তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে চোখ তুলে কথা বলার সাহস দেখিয়েছিলেন। তালেবানী অনুশাসন উপেক্ষার চরম মূল্য তাকে দিতে হয়েছিল। মাথায় গুলি খেয়েও বেঁচে ফিরেছেন মালালা। আর আফগান কিশোরী কন্যা কামার গুল সেই তালেবানদের বিরুদ্ধেই যা করেছে, তার জন্য অসীম সাহস দরকার।

কামার গুলের বাড়ি মধ্য আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশের এক গ্রামে। সেখানে আরো অনেক বাসিন্দা আছেন। কিন্তু, কামারের বাবা যেহেতু আফগান সরকারের সমর্থক, তাই তালিবানদের রোষানলে পড়ে পরিবারটি। গত সপ্তাহে দলবেঁধে ওই বাড়িতে হানা দেয় তালেবানরা। কামারের বাবাকে খতম করাই উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু, বাধা দিতে গিয়ে মা-ও মারা যান ওই জঙ্গিদের হাতে।

তালেবানেরা তাদের কপাল লিখন পড়তে পারেনি। কী অপেক্ষা করে আছে, তা তারা জানত না। মাত্র কয়েকটা সেকেন্ড। তালেবানদের গুলির জবাবে পাল্টা গুলি হলো। দুইয়ের বদলা দুই করে চরম প্রতিশোধ নিলো মেয়েটি। বাকিদেরও সে মারতে পারতো। কিন্তু মারেনি। যে দুই জঙ্গি মা-বাবাকে নির্মমভাবে খুন করেছে তাদের মেরেই প্রতিশোধ নিয়েছে কামার।

ঘোরের ওই গ্রামের প্রধান, স্থানীয় পুলিশের মাথায় বসে থাকা হাবিবুর রহমান মালেকজাদা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, তালেবানরা কামার গুলের বাবাকে খুঁজতে বাড়ি গিয়েছিল। তিনিই জানান, ওই কিশোরীর বাবা সরকারের সমর্থক হওয়ার কারণেই তালেবানরা খেপেছিল। ঘটনার দিন ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনে। সে সময় বাধা দিতে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী। তাকেও বাঁচতে দেয়নি তালেবানরা। বাড়ির বাইরে ওই দম্পতিকে একই সঙ্গে তারা হত্যা করে।

কামার গুল তখন ঘরের ভেতরেই ছিল। পরিবারের নিরাপত্তায় বাড়িতে রাখা একে-৪৭ এক ঝটকায় হাতে তুলে নেয়। যে দুই তালেবান তার মা-বাবাকে মেরেছে, আগে তাদের খতম করেন তিনি। তারপর ঘায়েল করেন তাদের সঙ্গী বাকি জঙ্গিদের।

যে কামার গুলের এত সাহস, তার বয়স ১৪ থেকে ১৬ এর মধ্যে হবে। তবে একেক সূত্র থেকে তার বয়স বিভিন্ন এসেছে। তবে ১৬ এর বেশি নয়। আফগানদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যারা তাদের আসল বয়স জানেন না।

এমন একটা ঘটনার পর তালেবানরা ছেড়ে দেবে, এটা ভাবাই ভুল। ঘটনার পরপরই তারা এসেছিল শোধ নিতে। কিন্তু সরকারপন্থী জঙ্গি ও কয়েকজন গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে। আবারো যে আসবে না, তা জোর দিয়ে বলা যায় না। তাই কামার গুল ও তার ছোট ভাইকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী। এমনটাই জানালেন প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র মহম্মদ আরেফ আবের।

আফগানিস্তানে শান্তিচুক্তির পরেও অস্ত্র ত্যাগ করেনি আফগান জঙ্গিরা। সম্প্রতি একাধিক হামলায় বহু আফগান নিরাপত্তারক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন।

সূত্র: এই সময়

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন