লালমনিরহাটে কুয়াশা, শৈত্য প্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন
গত কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা আর অব্যাহত শৈত্য প্রবাহে শীত জেঁকে বসেছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে। এতে জনজীবনে দেখা দিয়েছে নানান রোগসহ প্রভূত সমস্যা। দুপুর গড়ালেও সূর্য্যের দেখা মিলছে না উত্তরাঞ্চলের কোনো জেলায়।
হেড লাইট জ্বালিয়ে দিনের বেলায় গাড়ি চলাচল করছে। তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়েছে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী স্বল্প আয়ের মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। ছিন্নমূল মানুষের মাঝে রয়েছে শীত বস্ত্রের তীব্র সংকট। সোমবার রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, গত দুই তিন দিনে লালমনিরহাট জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এ অবস্থায় শীতকাতর মানুষেরা খর-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
বিশেষ করে গত ৫/৭ দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের দুস্থ পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় শীত বস্ত্রের অভাবে নিদারুণ দুর্ভোগে পড়েছে। ডায়রিয়া এবং নানা শীতজনিত রোগে কাহিল হয়ে পড়েছেন হাজারও শিশু এবং বৃদ্ধগণ। এদিকে শুধু সরকারিভাবে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও জেলার কোথাও বেসরকারীভাবে বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর ত্রানভান্ডার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তর দিন দফায় ৩১ হাজার ৯শত ২১ পিচ কম্বল বরাদ্দ দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
গত কয়েকদিনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বিভিন্ন জনপদে ঘুরে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। তবে এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, জেলার হতদরিদ্র, ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতে কাঁপছে। রাতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। এদের অধিকাংশেরই শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল দু’জন কর্মকর্তা সিভিল সার্জন ডাঃ কাশেম আলী ও সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আহসান হাবিব বাবু জানান, এ পর্যন্ত জেলার ৩টি শিশু শ্বাসকষ্টজনিত রোগ এবং ৯ জন ডায়রিয়া রোগে ভর্তি রয়েছে।