লক্ষ্মীপুরে প্রাণনাশের হুমকিতে পরিষদ যেতে পারছেন না ইউপি চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ভয়ে তিনি ইউপি কার্যালয়ে যেতে পারছেন না। বুধবার (১৩ এপ্রিল) গোড়ারবাঘ গ্রামের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। মানিক ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য বলে জানিয়েছেন ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান মানিককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার ইউপি কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। এছাড়া একই বিষয়ে গত তিন দিন ধরে ইউনিয়নের কয়েকটি বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে সালাহ উদ্দিন মানিক জানান, ফেসবুক সম্পর্কে তার ধারণা খুবই কম। বাড়ির পাশের এক চাচাতো ভাই তাকে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ড খুলে দেয়। ফেসবুকের পাসওয়ার্ডও তার জানা নেই। ২৯ মার্চ কে বা কারা তার ফেসবুক হ্যাকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটুক্তি করে স্ট্যাটাস দেয়। এক ব্যক্তি মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে সঙ্গে সঙ্গে তিনি তা ডিলিট করান। এরপর তিনি নিজেই চন্দ্রগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তার মোবাইলটি এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
তিনি আরো জানান, কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন ও লোকজন তাকে (মানিক) হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছেন। এতে গত কয়েকদিন তিনি কার্যালয়ে যেতে পারছে না। এতে পরিষদের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। ইউপি কার্যালয়ের সামনে লাল দাগ দিয়ে তার ব্যাঙ্গাত্বক ছবিসহ ব্যানার ঝুলিয়ে রেখেছে।
এ ব্যাপারে নুরুল আমিন বলেন, চেয়ারম্যান মানিক পরিষদে আসেন না, তিনি বাড়িতেই অফিস করেন। হুমকির অভিযোগ মিথ্যা।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকির বিষয়টি জানা নেই। ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে বলে তিনি একটি জিডি করেছেন। ঘটনাটি সিআইডি সাইবার ক্রাইমে তদন্ত চলছে। মানিককে অভিযুক্ত করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মানিক কুশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য।
২০০২ থেকে টানা ১০ বছর তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন। গেল ২৬ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনে তিনি পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিএনপি সমর্থিত এ চেয়ারম্যানের সঙ্গে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিনসহ ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।