বালু সংকট ও বরাদ্দের অর্থ ছাড় না পাওয়ায় মেঘনার বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ !

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর, ২০২২ ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: খরস্রোতা মেঘনার কড়াল ঘ্রাসে দিনদিন ছোট হতে চলছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মানচিত্র। প্রতিনিয়ত ভাঙছে মেঘনা-কাঁদছে মানুষ। আরো ভয়াবহ ভাঙনের রূপ নিচ্ছে রাক্ষুসে মেঘনা নদী। ইতিমধ্যে পুর্ণিমার জোয়ারে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিপদসীমা অতিক্রম করছে মেঘনার পানি। এতে পানি বন্দি রয়েছে প্রায় ১৫টি গ্রাম। এদিকে রামগতি-কমলনগরে নদী ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণে ৩১শ কোটি টাকা প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন সরকার। বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান কোন কাজ দেখা যায়নি। এনিয়ে ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা। লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলছেন, বালু সংকটে দীর্ঘদিন বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে গেল ৫০ বছরের ভাঙনে মেঘনাগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার একর ফসলি জমি, সরকারি-বেসরকারি ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, আশ্রয়ণ কেন্দ্রের পাঁচটি কলোনি,পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এবং কয়েক কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়কসহ অসংখ্য মসজিদ, বিভিন্ন স্থাপনা ও হাটবাজার।  এ মৌসুমেও ভাংঙনের তীব্রতা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে মেঘনা।এতে করে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে ওইসব গ্রামের বাসিন্দাদের। টেন্ডার হলেও অর্থ ছাড় না পাওয়ায় কাজ করতে পারছে না ঠিকাদাররা। ভাঙন রোধে প্রস্তাবিত প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের দাবি জানান স্থানীয়রা।

 

দীর্ঘ পাঁচ দশকে মেঘনার এ অব্যাহত ভাঙনে মতিরহাট,চরকাঁকড়া,কাদির পন্ডিতেরহাট, চরসামছুদ্দিন ও তালতলি,সাহেবেরহাট,হাজিগন্জ, চরজগবন্ধু, মাতব্বরনগর এবং চরফলকন ইউনিয়নের চরকটোরিয়া, চরকৃষ্ণপুর, মাতব্বরচর ও পাতারচর এবং পাটারীরহাট ইউনিয়নের উরিরচর, পশ্চিম চরফলকন ও ডিএস ফলকনসহ প্রায় ১৪ টি গ্রাম সম্পূর্ণ মেঘনার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ মৌসুমে কাজ শুরু না করলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে কমলনগর।চলতি বছরের ৯ জানুয়ারিতে কমলনগরের সাহেবেরহাট ইউনিয়নের মেঘনানদী এলাকায় বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। কিন্তু উদ্বোধন ছাড়া এখনো কোন কাজ শুরু হয়নি।এই নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে প্রচন্ড ক্ষোভ। তারা দ্রুত মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, বালু সংকট হওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। খুব শীঘ্রই চাঁদপুর থেকে বানু এনে কাজ শুরু করা হবে।বাঁধ নির্মাণে সময় লাগবে। এজন্য নদীর পাড়ের মানুষরা ধয্য ধরতে হবে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন