ঘটনার সময় থানায় ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা, তবুও মামলার আসামি !
নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরে রামগঞ্জে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছাত্রলীগ নেতা মোরশেদুল আমিন বাবুকে একটি হামলার ঘটনার মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। ওই মামলায় উল্লেখিত ঘটনার সময় তিনি উপজেলার লামচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়ার সঙ্গে রামগঞ্জ থানায় উপস্থিত ছিলেন। বাবু রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি। এদিকে ছাত্রলীগ নেতাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার সাবেক নেতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২ মে বিকেল ৫ টার দিকে লামচর ইউনিয়নের দাসপাড়া এলাকায় যুবলীগ নেতা মো. ওয়াদুদকে ত্রাণ বিতরণে বাধানুবাধের একপর্যায়ে মারধর করা হয়। ইউনিয়ন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহাগ হোসেন লোকজন নিয়ে তাকে মারধর করে। এসময় ঘটনাটি মীমাংসা করতে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়েরকেও সোহাগ মারধর করে। আহত অবস্থায় আবুল খায়ের ও ওয়াদুদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেয়। পরে হাসপাতাল থেকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মামলা করার জন্য তারা থানায় যায়। প্রায় ৯ টা পর্যন্ত তারা থানায় ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা মোরশেদুল আমিন বাবুও হাসপাতাল থেকে থানায় যান।
অন্যদিকে যেসময় ছাত্রলীগ নেতা বাবু ও যুবলীগ নেতা ওয়াদুদ থানায় উপস্থিত ছিলেন। ঠিক সেই সময়ে নতুন একটি ঘটনায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাবুসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ঢাকার ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম থানায় মামলা দায়ের করেন। সফিক একই এলাকার বাসিন্দা। মামলার এজাহারে উল্লেখ ছিল, ২ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দাসপাড়া এলাকায় বাবু ও ওয়াদুদসহ আসামিরা সফিককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। কিন্তু উল্লেখিত ঘটনার সময় বাবু ও ওয়াদুদ অন্য একটি মামলা করার জন্য থানায় উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রলীগ নেতা মোরশেদুল আমিন বাবু বলেন, মামলায় যে ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, ওইসময় আমি আবুল খায়েরের সঙ্গে থানায় ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সুষ্ঠু পুলিশী তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি রোধের দাবি জানাচ্ছি।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের জানান, ত্রাণ বিতরণে সমস্যা হওয়ায় ওয়াদুদকে যুবলীগ নেতা সোহাগ মারধর করছিল। এতে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়। সেখান থেকে মামলার করার জন্য তারা থানায় যায়। এসময় তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাও উপস্থিত ছিলেন। সফিককে কে বা কারা মারধর করেছে তা তিনি জানেন না। তবে বাবু ও ওয়াদুদ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক নজরুল ইসলাম ভুলু বলেন, করোনার শুরু থেকে ছাত্রলীগ নেতা বাবু অসহায়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সরবরাহ ও কৃষকদের পাকা ধান কেটে ঘরে তুলে দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি করছি।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ নেতা বাবুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় এক ব্যবসায়ী মামলা দায়ের করেছেন। এটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। বিস্তারিত জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
তবে বক্তব্য জানতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদীয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির (এসআই) এমদাদুল হকের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।